Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান আদালতে বিচারক কম হতাশ হয়ে ফিরছেন বিচারপ্রার্থীরা

বর্ধমান আদালতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক নেই

বর্ধমান আদালতে বিচারক কম হতাশ হয়ে ফিরছেন বিচারপ্রার্থীরা
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান আদালতে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক নেই। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। মামলার তারিখের পর তারিখ পড়ছে। হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, তা সামাল দিতে কালনা, কাটোয়া আদালত থেকে ছুটির দিনে বিচারক নিয়ে এসে পুলিস ফাইল করাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষীদের গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করাতে দেরি হচ্ছে। যার জেরে তদন্ত ব্যাহত হচ্ছে। এনিয়ে বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি আইনজীবীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে চিঠি দিয়ে জোনাল জজ এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বিচারক না থাকার ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তারপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বার অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তিনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক নেই। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা। বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার কারণে হতাশ হচ্ছেন তাঁরা। বিচারক না থাকার কথা জানিয়ে বারের তরফে জোনাল জজ এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে জানানো হয়েছে। কিন্তু, তাতে কোনও ফল হয়নি। এনিয়ে ফের চিঠি দেওয়া হবে। মানুষকে দ্রুত বিচার পাইয়ে দিতে নানা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বিচারক না থাকলে বিচার করবে কে? 

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচারকহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিনটি আদালতেই মামলার পাহাড় জমে রয়েছে। বিচারক না থাকায় বিচার হচ্ছে না। তারিখের পর তারিখ পড়ছে। আইনজীবীর কাছ থেকে মামলার পরবর্তী দিন নিয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। চতুর্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আদালতে চেক বাউন্সের মামলার বিচার হয়। চেক বাউন্সের বহু মামলা জমে রয়েছে। দিনকয়েক আগে চতুর্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একজন বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মুনসেফ আদালতের পাশাপাশি চতুর্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দায়িত্ব সামলাবেন। বিচারক না থাকার কারণে কয়েকটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষীদের গোপন জবানবন্দি পিছিয়ে দিতে হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে তা সামাল দিতে কালনা, কাটোয়া থেকে ছুটির দিনে ম্যাজিস্ট্রেট এসে পুলিস ফাইলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সেখান থেকে বিচারক আসতে বিলম্ব হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীদের। রবিবারই এধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে বিচারপ্রার্থীদের। এদিন বেলা ৩টে নাগাদ কাটোয়া কোর্টের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শৈলজাশঙ্কর মিশ্র আদালতে এসে পৌঁছনোর পর পুলিস ফাইল শুরু হয়। ফলে, দীর্ঘক্ষণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষা করতে হয়। আইনজীবী পুলক মুখোপাধ্যায় বলেন, ১৫ বছরের বেশি প্র্যাকটিস করছি। এরকম পরিস্থিতি এর আগে কখনও দেখিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ