Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যন্ত্রণার যাত্রাপথ: বর্ধমান শহরে বেহাল রাস্তায় ভোগান্তি, কাঠগড়ায় পুরসভা

বেহাল রাস্তা। বাইক, টোটো, সাইকেল উল্টে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। গাড়ির চাকায় রাস্তার কাদামাখা জমা জল ছিটকে পোশাক নষ্ট হচ্ছে।

যন্ত্রণার যাত্রাপথ: বর্ধমান শহরে বেহাল রাস্তায় ভোগান্তি, কাঠগড়ায় পুরসভা
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গণেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান: বেহাল রাস্তা। বাইক, টোটো, সাইকেল উল্টে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। গাড়ির চাকায় রাস্তার কাদামাখা জমা জল ছিটকে পোশাক নষ্ট হচ্ছে। এনিয়ে বচসা, মারপিটের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ধমান শহরের রাস্তার বেহাল দশার জন্য পুরসভাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অম্রুত প্রকল্পে পাইপলাইন বসানোর পর রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পেলেও পুরসভা রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হয়নি। বর্ষার আগে রাস্তা মেরামত করা উচিত ছিল। তাও করা হয়নি। সেই কারণে রাস্তার অবস্থা এতটা খারাপ হয়েছে। 

Advertisement

শহরের মোহনবাগান মাঠের পাশ দিয়ে কাজিরহাট যাওয়ার রাস্তার অবস্থা কার্যত খাটালের চেহারা নিয়েছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড়বড় গর্ত হয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রায় দু’-আড়াই ইঞ্চি গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমে অযোগ্য হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। ওই রাস্তা দিয়েই গোদা এলাকার বাসিন্দারা মূলত শহরে আসেন। হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য রাস্তাটি ব্যবহার করেন বাসিন্দারা। গোদা বাঁধপাড়া, মোল্লাপাড়া, চারপাড়া যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও খুব খারাপ। রাস্তায় বড়বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেখানে জল জমে রয়েছে। গোদা খেলার মাঠ হয়ে স্বাস্থ্যনগরী যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও খুব খারাপ। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকে। ফলে, রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা হয়। বোরহাট থেকে টিকরহাট হয়ে লাকুর্ডি জলকল যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড়বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। 
একই অবস্থা কোটালহাট, রাজগঞ্জ হয়ে রথতলা যাওয়ার রাস্তাটির। রাস্তার বেশকিছু জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। শহরে আসার জন্য রথতলা, উদয়পল্লির বাসিন্দারা এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। রাস্তার হাল খারাপ হয়ে পড়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বোরহাট থেকে দিঘিরপুলে যাওয়ার রাস্তার অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। ভেড়িখানা থেকে নতুনগঞ্জ যাওয়ার রাস্তাটিও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকে। কাদা মাখামাখি হয়ে থাকে রাস্তা। মর্গের পাশ দিয়ে বাবুরবাগ মসজিদতলা, শিবশঙ্কর সেবা সমিতি হয়ে জিটি রোডে ওঠার রাস্তাটিও খুব খারাপ। দীর্ঘদিন জল জমে থাকায় খানাখন্দে ভরে গিয়েছে রাস্তা। পিচের আস্তরণ ও স্টোনচিপ উঠে গিয়ে বড়বড় পাথর বেরিয়ে পড়েছে। বর্ধমান হাসপাতাল থেকে বাবুরবাগ কালীতলা ও মর্গের দিকে যাওয়ার রাস্তাটিও দীর্ঘদিন ধরে খারাপ হয়ে রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া এবং মর্গে যাতায়াত করেন রোগী ও পরিবারের লোকজন। মেডিক্যাল কলেজের সামনের রাস্তায় পাথরের গুঁড়ো ফেলে মেরামত করা হলেও সমস্যা মেটেনি। 
কালীতলা যাওয়ার রাস্তার পাশে রয়েছে ক্যান্সার হাসপাতাল। বহু রোগী সেখানে দেখাতে যান। রাস্তাটি যান চলাচলের কার্যত অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাবুরবাগের ক্ষুদিরামপল্লি হয়ে জিটি রোডে ওঠার রাস্তাটির অবস্থাও দীর্ঘদিন খারাপ। টোটোচালক ইমরান শেখ বলেন, শহরের বেশিরভাগ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্তে পড়ে গিয়ে টোটো উল্টে যাত্রী জখম হওয়ার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে। টোটোর যাত্রী প্রতিমা দাস বলেন, রাস্তা খারাপের জন্য টোটোয় চেপে যাতায়াত করাও মুশকিল হয়ে পড়ছে। টোটোর ঝাঁকুনিতে সারা শরীরে ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। এক অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, রোগী নিয়ে যেতেও সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় জোরে অ্যাম্বুলেন্স চালানো যাচ্ছে না। 
পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, শহরের রাস্তা সংস্কারের জন্য ১১কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু, টানা বর্ষণের কারণে রাস্তা সংস্কারে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুকূল হলেই দ্রুত রাস্তা সংস্কারে হাত দেওয়া হবে। (চলবে)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ