পালতোলা নৌকার মতো মন ভাসিয়ে দিন মধুচন্দ্রিমায়। কোথায় যাবেন বাজেট মেনে? থাকছে তারই সন্ধান।
পালতোলা নৌকার মতো মন ভাসিয়ে দিন মধুচন্দ্রিমায়। কোথায় যাবেন বাজেট মেনে? থাকছে তারই সন্ধান।
মাহলদিরাম
• সবুজ আলপনা আঁকা চা বাগানে মধুচন্দ্রিমা। স্বপ্ন ভাবছেন? না না, খরচ সাধ্যের মধ্যে। চলুন উত্তরবঙ্গের অফবিট মাহলদিরাম। চা বাগান ঘেরা গ্রাম। এখানে পাহাড়, প্রকৃতি মিলেমিশে একাকার। ঢেউ খেলানো চা বাগান আর আকাশ ছোঁয়া পাইনের সারি হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে। পাহাড়ের ঢাল থেকে ভেসে আসে দু’টি পাতা একটি কলির আনন্দ গান। চরাচর জুড়ে পাখিদের গুঞ্জন। বাহারি প্রজাপতির প্রাচুর্য। কখনও আবার মেঘেদের দল বেঁধে ওড়াউড়ি। আর শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। অলস নির্জন পাহাড়ি পথে শীত মেখে হেঁটে যেতে যেতে মনে হবে এই পথ যেন শেষ না হয়। ইচ্ছে হলে ঘুরে নিতে পারেন বাগোরা, চিমনি, কার্শিয়াং।
কীভাবে যাবেন: ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি। আর বিমানে বাগডোগরা। তারপর গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় মাহলদিরাম।
গোপালপুর
• নিরিবিলি এই সমুদ্র সৈকতে মধুচন্দ্রিমা কাটাতে মন্দ লাগবে না। বঙ্গোপসাগরের তরঙ্গ অবিরাম আছড়ে পড়ে সাদা বালির উপর। যত দূর চোখ যায় নীলের ঘনঘটা। আকাশ সমুদ্র মিলেমিশে একাকার। রংবাহারি জেলে নৌকা ভেসে বেড়ায় নীল জলে। রাতের আকাশে অসংখ্য তারার ঝলক আর ঢেউ ভাঙার শব্দ। অন্ধকার সরিয়ে কমলা আলোয় তিনি যখন উদয় হন নীল জলের মধ্যে থেকে তখন পৃথিবীটা অন্যরকম লাগে। প্রতি মুহূর্তে বদলে যেতে থাকে প্রকৃতির কালার প্যালেট। গোপালপুর থেকে একদিন ঘুরে দেখে নেওয়া যেতে পারে আশপাশের দ্রষ্টব্য স্থানগুলো। পুরনো জেটি, তারাতারিণী মন্দির, তপ্তপানি, লাইটহাউস।
কীভাবে যাবেন: চেন্নাইগামী ট্রেনে চেপে বেরহামপুর স্টেশনে নামতে হবে। এখান থেকে অটো বা গাড়িতে গোপালপুর সৈকত। বিমানে গেলে ভুবনেশ্বর নেমে ট্রেন, বাস বা গাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায় গোপালপুর। থাকার জন্য নানা মানের হোটেল, রির্সট আছে।
সান্তালেখোলা
• নদী কোথা হতে আসে, কোথায় যায় কে জানে! পাহাড়ি নদী সান্তালেখোলা। নূপুর পায়ে নেমে এসেছে পাহাড়, জঙ্গল পেরিয়ে। এই নদীর বাংলা মানে কমলালেবুর নদী। সান্তালে অর্থাৎ কমলা, আর খোলা নদী। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কুলকুল শব্দে বয়ে যায় চঞ্চলা সান্তালে। পাথরে পাথরে নেচে চলার কী মধুর ছন্দ। জঙ্গলের অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীরতা থেকে পাখিদের কূজনে চারপাশ মুখরিত। কত ধরনের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হয়ে ঘুরে বেড়ায় জঙ্গলময়। ঝিঁঝিদের অদ্ভুত কনসার্ট তরঙ্গের মতো বয়ে যায়। নদীর ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে প্রকৃতির এই রূপ-রস তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করুন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে।
গালচে মোড়া সবুজ ঘাসের উপর গাছের মাথা টপকে রোদ আসে। সেই রোদে ঘাস হেসে লুটোপুটি খায়। প্রকৃতির এই অঙ্গনে নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করতে পারেন।
ইচ্ছে হলে একটা দিন ইতিউতি ঘোরাঘুরি করতে পারেন। দেখতে পারেন সামসিং, রকি আইল্যান্ড, ঝালং, বিন্দু, মূর্তি। যাতায়াতের পথে মেটেলির চা বাগান মুগ্ধ করবেই।
কীভাবে যাবেন: আলিপুরদুয়ারগামী ট্রেন ধরে নামতে হবে মাল জংশন। বিমানে বাগডোগরা। দু’দিক থেকেই গাড়ি নিয়ে পৌঁছতে হবে সান্তালেখোলা।
জুলুক
• পূর্ব সিকিমের পাকিয়ং জেলার ১০, ১০০ ফুট উচ্চতায় এক পাহাড়ি গ্রাম জুলুক। শীতে জুলুকের শরীর জুড়ে সাদা বরফের প্রলেপ। আবার বরফ না থাকলেও ঠান্ডা মুড়ে রাখে জুলুককে। রুক্ষ জুলুকের তখন অন্য রূপ। সিকিমের নির্জন এই পাহাড়ি গ্রাম খোলামেলা প্রকৃতির রঙ্গমঞ্চ। শুধু প্রকৃতি নয়, জুলুক ঐতিহাসিকও বটে। এক সময় সিল্ক রুটের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট ছিল। সবার পিছনে মাথা তুলে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এক এক সময় মেঘের দল তিরবেগে দৌড়ে এসে ঢেকে দিয়ে যায় দিগ্বিদিক। জুলুকের তখন অন্য রূপ। নাটকের দৃশ্যপটের মতো বদলে যায় সব। আবার বসন্তে রংবেরঙের রডোডেনড্রনের শোভা পাগল করবে আপনার মন।
রেশম পথ ধরে এগিয়ে ঘুরে নেওয়া যায় থাম্বি ভিউ পয়েন্ট, লুংথুং, তুকলা, নাথাং ভ্যালি, ওল্ড বাবা মন্দির, কুপুপ লেক, মেমেঞ্চো লেক, ছাঙ্গু লেক। দেখতে দেখতে পৌঁছে যান সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক।
কীভাবে যাবেন: নিউ জলপাইগুড়ি বা বাগডোগরা থেকে প্রাইভেট গাড়িতে পাহাড়ি পথ ধরে পৌঁছতে হবে জুলুক।
তাপস কাঁড়ার