সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ বিল, লাখপতি দিদি, উজ্জ্বলা গ্যাস, জনধন যোজনা ইত্যাদি দীর্ঘদিন ধরেই হাতিয়ার নরেন্দ্র মোদির। নির্বাচনী প্রচার হোক কিংবা সরকারি-বেসরকারি যে কোনও অনুষ্ঠান সর্বত্র দাবি করেন, ভারতের নারীশক্তির উন্নয়নে তিনি এবং তাঁর সরকার যা করেছে অতীতে কেউ করেনি। অথচ বাস্তবে এই দাবির সঙ্গে মিলছে না মোদি সরকারের নীতি। কারণ, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের যে কেন্দ্রীয় বাজেট সদ্য পেশ করা হল, সেখানে সামগ্রিকভাবে তামাম মন্ত্রকের বরাদ্দের মধ্যে নারী ও শিশুকল্যাণের প্রাপ্তি মাত্র ০.৫৩ শতাংশ! না, বিরোধীদের দাবি নয়। এই তথ্য উঠে এসেছে খোদ সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টে। সেই রিপোর্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের জন্য বাজেট বরাদ্দ এত কম কেন?
আগামী অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রককে দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। শুক্রবারই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের ‘ডিমান্ডস ফর গ্র্যান্টস’ নিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ সংবলিত রিপোর্ট পেশ হয়েছে সংসদে। তাতে সংসদীয় কমিটি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করেছে, ‘২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশই নারী ও শিশু। তাদের উন্নয়ন ও আর্থ সামাজিক উত্তরণের প্রধান দায়িত্ব নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রকের উপর। সেই মন্ত্রকের জন্য বাজেটে কেন এত কম অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে?’ বিগত আর্থিক বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ২৬ হাজার ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল নারী ও শিশুকল্যাণে। যদিও সংশোধিত বাজেটে সেই অঙ্ক কমিয়ে দেওয়া হয়। বরাদ্দ করা হয়েছিল ২৩ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। সংসদীয় কমিটি আরও ক্ষুব্ধ এই কারণে যে, এই ২৩ হাজার কোটি টাকাও পুরোপুরি ব্যয় করতে পারেনি অন্নপূর্ণা দেবীর নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ৫ হাজার কোটি টাকা পড়েই রয়েছে কোষাগারে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রককে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই মন্ত্রকের অধীনে অঙ্গনওয়াড়ি, পোষণ ফর চিলড্রেন (যার প্রধান অংশ মিড ডে মিল), মিশন বাৎসল্য, মিশন শক্তির মতো আরও একঝাঁক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্প রয়েছে। সেই যোজনাগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামোন্নয়ন এবং নারীসুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির। কমিটি দেখেছে যে, জানুয়ারি পর্যন্ত অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্পে ৫ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা খরচ হয়নি। পোষণ অর্থাৎ মিড ডে মিলে পড়ে রয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা।
বাজেটে বরাদ্দ হওয়া টাকা ব্যয় না হয়ে পড়ে থাকছে কেন? এর অন্যতম প্রধান কারণটি প্রবল উদ্বেগজনক। রাজ্যগুলি কেন্দ্রকে জানিয়েছে, এইসব প্রকল্প রূপায়ণকারী মহিলাদের পারিশ্রমিক এতই কম যে, কর্মী পাওয়া যায় না। বিষয়টি নজরে এসেছে কমিটিরও। তাদের তরফে কেন্দ্রকে সাফ জানানো হয়েছে, অবিলম্বে ওই নারী কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক!