Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টি হতেই পঃ মেদিনীপুরে কমে গেল আলুবীজের দাম

বৃষ্টি হতেই পঃ মেদিনীপুরে কমে গেল আলুবীজের দাম
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দ্রকোণা রোড: শীতের আমেজে হালকা বৃষ্টি হতেই দাম কমল আলুবীজের। তাই রবিবার গড়বেতা-৩ ব্লকের চন্দ্রকোণা রোড এলাকায় আলুর বীজ কিনতে বহু চাষি ভিড় জমালেন। এদিন চার থেকে ছয় কোটি টাকার আলুবীজ বিক্রি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আলুবীজ কিনতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, ভিনরাজ্য থেকেও চাষিরা এসেছিলেন। আলু চাষিদের কথায়, বৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই ভেজা মাটিতে আলু চাষ শুরু করবে না। ফলে আলুর বীজ বিক্রি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই এদিন সকাল থেকেই আলুবীজের দাম তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলুবীজ কেনার জন্য চাষিদের ভিড় বাড়তে থাকে। এরপর বীজ কেনার পর চাষিরা টোটো, মোটরভ্যানে চাপিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। 
Advertisement
কেশপুর এলাকার চাষি সুনীল ঘোষ বলেন, এই মরশুমে শুরুর দিকে আলুবীজের দাম অনেকটাই বেশি ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় দাম অনেকটাই কমেছে। এছাড়া রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় ভিড় অনেকটাই বেশি। তবে আর একটু দাম কমলে ভালো হতো। প্রশাসনের তরফে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে শুনেছি। 
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করার প্রস্তুতি শুরু করেন চাষিরা। নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই জমিতে বসানোর জন্য আলুবীজ কেনা শুরু করেন চাষিরা। সেই নতুন আলু জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারে চলে আসে। শীতের মরশুমে নতুন আলুর দামও থাকে। জানা গিয়েছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বেশি লাভ পেতে ধান কেটে ঘরে তোলার পরেই সেই জমিতে আলু চাষ করেন অনেক চাষি। কিন্তু এবছরও আলুবীজের দাম তুলনামূলক বেশি। তাই সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলুবীজের বাজার হল চন্দ্রকোণা রোড। এবছর শুরুতে ৫০কেজি আলুবীজের দাম ছিল ২৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা। জ্যোতি, পোখরাজ বীজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গত বছরের তুলনায় আলুবীজের দাম যে এবার বেড়েছে, তা স্বীকার করছেন ব্যবসায়ীরাও। চন্দ্রকোণা রোডে গেট বাজার চত্বরের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, গত সপ্তাহে দাম উঠে গিয়েছিল বস্তাপিছু ৩২০০ টাকা। বৃষ্টির জেরে এদিন আলুবীজ সর্বোচ্চ ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক আলু চাষি বলেন, আলু চাষের শুরুতেই মাটি ভিজে গেলে খুব সমস্যা।  নিচু জমিতে জল জমে গেলে আলু চাষ আর হবে না। বিক্রির পরিমাণ ঠিক রাখতে দাম কমানো হয়েছে। আলুবীজের মান আগের তুলনায় অনেকটাই পড়েছে। গত বছর এক বস্তা আলুবীজের দাম ছিল হাজার থেকে দু’হাজার টাকা।  চন্দ্রকোণা রোড আলুবীজ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আশিসকুমার মুলা বলেন, এদিন আলুবীজ কিনতে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। প্রচুর বীজ বিক্রি হয়েছে। পাঞ্জাব থেকে আসা বীজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। তবে দামটা কিছুটা কমেছে। সামনের সপ্তাহে আলুবীজ বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদী। আবহাওয়া অনুকূল হলে বিক্রি এমনিতেই বেড়ে যায়।
সম্পর্কিত সংবাদ