Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁশের সাঁকো, নিত্য পারাপারে চরম সমস্যায় এলাকাবাসীরা

বাঁশের সাঁকো, নিত্য পারাপারে চরম সমস্যায় এলাকাবাসীরা
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোয় নদী পারাপার করছে এলাকার মানুষ। শীতের এই সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনওরকমে করম নদী পারাপার করা গেলেও বর্ষাকালে নদী জলে ভরে থাকায় প্রচণ্ড সমস্যা হয়। বছরের পর পর এভাবেই চলাচল করে আসছেন পাইকরের আমডোল গ্রাম পঞ্চায়েতের খুটকাইল, রামচন্দ্রপুর সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব বাসিন্দারা। 
Advertisement
রামচন্দ্রপুর, খুটকাইল গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গিয়েছে পাগলা নদী। নদীর দু’ধারে বহু গ্রাম। আগে নদীর জল পেরিয়ে যাতায়াত করতেন দু’পারের গ্রামের মানুষ। বেশ কয়েক বছর হল গ্রামবাসীরা নিজেদের চাঁদায় নদীর উপরে বাঁশ দিয়ে সাঁকো করে যাতায়াত করছেন। নড়বড়ে সেই সাঁকের উপর দিয়ে প্রাণ হাতে চলাচল করতে হয় তাঁদের। গ্রামবাসীরা জানান, নদীর ওপর সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলতে হয়। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কেউ খোঁজ রাখেননি। এসব গ্রামে উৎপাদিত কৃষিপণ্য তাঁরা সময়মতো বাজারে নিয়ে যেতে পারেন না। এই কারণে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর কারণে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী থেকে বয়স্ক ও গর্ভবতী মায়েদের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে গিয়ে একাধিকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
জানা গিয়েছে, ব্লক অফিস, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে থানা, সরকারি দপ্তর, বাজার সবই পাইকরে। প্রতিদিন ওই সমস্ত গ্রাম থেকে কয়েকশো মানুষ পাইকরে যাতায়াত করেন। তাই এই জরাজীর্ণ ভগ্নপ্রায় বাঁশের সাঁকোই তাঁদের ভরসা। বর্ষাকালে পাগলা নদীর ভয়াবহ বন্যায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এলাকায়। নদী পারাপার করা সম্ভব হয় না। তখন ভরসা ভাঙাচোরা একটি নৌকো। ৪০ ফুট দূরত্ব পারাপার করা না গেলে, ২৫ কিমি ঘুরপথে পাইকর যেতে হয় এলাকার মানুষকে। তাই তাঁদের দাবি, একটি কংক্রিটের সেতু তৈরি করে সরকার যেন তাঁদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে। এলাকার তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান আব্দুল অদুত বলেন, সেতুটির খুবই প্রয়োজন। একপ্রকার জীবন হাতে নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো পারাপার করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে নদী ফুলে ফেঁপে উঠলে আরও বেশি সমস্যা হয়। এর আগেও বহুবার জেলায় প্রস্তাব পাঠিয়েছি। লোকসভা ভোটের প্রচারে গ্রামে এসেছিলেন শতাব্দী রায়। তাঁকেও জানানো হয়েছিল। অনুব্রত মণ্ডল থেকে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকেও কয়েকবার বলেছি। কিন্তু হয়নি। অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে বহু ব্রিজ হয়েছে। এখানেও হবে। সেই আশায় বসে আছেন গ্রামের মানুষ।  
যদিও মুরারই ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ মোক্কামেল হোসেন বলেন, মাস ছয়েক আগেই ওখানে সেতু নির্মাণের জন্য জেলায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। জেলা থেকে প্রস্তাবটি রাজ্যে পাঠিয়েছে বলে জানি। আশা করি, মা মাটি মানুষের সরকার সেতু নির্মাণের জন্য আর্থিক অনুমোদন দেবেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ