সংবাদদাতা, ডোমকল: বিএসএফের তৎপরতা টের পেয়ে মাটিতে গর্ত করে সোনার বিস্কুট পুঁতে ওপারে পালিয়ে যায় বাংলাদেশি চোরাচালানকারী। অবশ্য কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে মাটি খুঁড়ে কোটি টাকার সেইসব সোনার বিস্কুট উদ্ধার করে বিএসএফ। শনিবার শেষ রাতে জলঙ্গির চরভদ্রা বিওপি পয়েন্ট এলাকায় সীমান্ত থেকে কয়েকশো মিটার দূরে এভাবেই ৮৩২.৫৫ গ্রাম ওজনের ৮টি সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফের ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নের চরভদ্রা ফরোয়ার্ড বিওপি ক্যাম্পের জওয়ানরা। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা সোনার বিস্কুটের বাজারমূল্য প্রায় ১.০৯ কোটি টাকা।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় জলঙ্গির চরভদ্রা ফরোয়ার্ড বিওপি ক্যাম্পের আধিকারিকদের কাছে খবর আসে, ওই এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি সোনা ভারতে পাচার করা হতে পারে। সোর্স ইনপুট পেয়ে তৎক্ষনাৎ জওয়ানদের সতর্ক ও গোপনে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও বিএসএফের অতিসতর্কতা সত্ত্বেও বিষয়টি টের পেয়ে যায় পাচারকারী। সোনা সহ ধরা পড়ার ভয়ে ছক বদল করে ফেলে সে। তড়িঘড়ি সীমান্ত থেকে কয়েকশো মিটার দূরে মাঠের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে সোনাগুলি পুঁতে ফেলে। তারপর অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে যায়। সন্দেহের ভিত্তিতে সন্দেহজনক ওই জায়গায় তল্লাশি শুরু করে বিএসএফ। চলে কয়েক ঘণ্টা ধরে চিরুনি তল্লাশি। বিএসএফের একটি দল নামে ওই তল্লাশিতে। এরপরই একটি অংশের মাটি আলগা দেখে সন্দেহ হয় জওয়ানদের। সেখানে খুঁড়তেই মাটির একটু নীচে থরে থরে সাজানো সোনার বিস্কুট দেখতে পায়। এরপরই একে একে সোনার বিস্কুটগুলি গর্ত থেকে বের করে আনা হয়। সেই সময় গর্ত থেকে ৮টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। সেগুলি ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। পরে নির্দিষ্ট আইনি পদ্ধতি মেনে রবিবার রাতে সেগুলিকে জলঙ্গির শুল্ক বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়।
জানা গিয়েছে, ভারতীয় বাজারে মাঝেসাঝেই চড়চড়িয়ে বাড়ছে সোনার দাম। তবে ভারতীয় বাজারে উর্ধমুখী হলেও তুলনামূলক ভাবে ওপার বাংলায় এখনও সাধ্যের মধ্যেই সোনার দাম। সেই সুযোগে বাংলাদেশ থেকে এদেশে সোনা পাচারে মরিয়া হয়ে উঠেছে সীমান্তের চোরাকারবারিরা। আর তাতেই গত কয়েকমাসে চোরাপথে ভারতে সোনা পাচারের অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
বিএসএফের এক জওয়ান জানান, চোরাচালান রোধে বিএসএফ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে তথ্য জানাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা। বাসিন্দারা আমাদের সীমা সাথী হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সোনা পাচারের বিষয়ে গোপন তথ্য দিতে পারেন। তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।