সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রঘুনাথগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরে অসৎ উদ্দেশ্যে এক নাবালিকাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে রঘুনাথগঞ্জের পিরোজপুরের ওই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই চরের লোকজন বাহুড়া বিএসএফ ক্যাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। ওই কিশোরীকেও ক্যাম্পে নিয়ে যান বাসিন্দারা। কয়েকশো মানুষ জড়ো হয়ে ঘটনার বিচার চায়। বিএসএফের সঙ্গে বাসিন্দাদের আলোচনার পর ঘণ্টা দু’য়েক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জঙ্গিপুর ফাঁড়ির এক পুলিস আধিকারিক বলেন, বিএসএফের এক জওয়ান নাবালিকার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। তবে, কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
যদিও ৭১ বাহুড়া বিওপির কমান্ডান্ট মনোজ বোরা বলেন, একজন জওয়ান কোনও দুষ্কর্ম করতে পারে না। একটা বাচ্চার কথায় গ্রামের লোকজন ভুল বুঝেছেন। এবিষয়ে শিশুর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই জওয়ানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এদিন চরের এক বাসিন্দা তাঁর নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে বাগানে আম পাড়তে যান। গাছ থেকে পাড়া আম মেয়েকে দেখতে বলে কিছুটা দূরে আর একটি বাগানে যান। তখন সেখানে আরও কয়েকজন বালক খেলা করছিল। ওই বিএসএফ জওয়ান সেখানে ডিউটি করছিল। অভিযোগ, জওয়ান বালকদের তাড়িয়ে দিলে নাবালিকা একা হয়ে যায়। তখন ওই বিএসএফ জওয়ান অসৎ উদ্দেশ্যে নাবালিকাকে জিরো পয়েন্টের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। নাবালিকা চিৎকার করে কোনও রকমে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে জওয়ানের কথা জানায়। তাতে উত্তেজিত লোকজন বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে জওয়ানের শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের বাহুড়া কামান্ড্যান্টের সঙ্গে আলোচনা করেন। বড়োশিমুল পঞ্চায়েতের সদস্যা সাইরা বিবির স্বামী সুক মহম্মদ বলেন, বিষয়টি জানার পর নাবালিকাকে সঙ্গে নিয়ে বিএসএফ ক্যাম্পে যাই। ঘটনাটি সবিস্তারে কমান্ডান্টকে জানিয়েছি। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। বিএসফের ক্যাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র