Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বোরোর পরিবর্তে চাষিদের ডালশস্য চাষের পরামর্শ

বোরোর পরিবর্তে চাষিদের ডালশস্য চাষের পরামর্শ
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর ক্রমশ নীচের দিকে নামছে। প্রায় ৪০ বছরে জলস্তর ২০-৩০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি আধিকারিকরা বোরো ধান চাষের পরিবর্তে ডাল শস্য সহ গম, সর্ষে চাষে জোর দিতে চাইছেন। আধিকারিকদের মতে, বোরো চাষে বিপুল পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয়। আর চাষের কাজে বেশিরভাই ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার হয়। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর সঙ্কটের মুখে পড়বে। তবে বোরোর এক চতুর্থাংশ কিংবা তারও কম জলে ডালশস্য সহ গম, সর্ষে চাষ করা সম্ভব। এতে ভূ-গর্ভস্থ জলের ভাঁড়ারে সেভাবে টান পড়ার আশঙ্কা থাকবে না। এব্যাপারে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
Advertisement
বীরভূম মূলত রুখাশুখা এলাকা হিসেবেই পরিচিত। তার উপর বোরো চাষের জন্য যেভাবে ভূ-গর্ভস্থ জলের ব্যবহার হচ্ছে তাতে জলস্তর ক্রমশ নামছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, প্রতি কেজি ধান উত্পাদনে প্রায় তিন হাজার লিটার জল প্রয়োজন হয়। ২০ টাকা লিটার হিসেবে ওই জলের দাম প্রায় ৬০হাজার টাকা। বিঘার হিসেবে সেই অঙ্ক ছ’কোটিতে পৌঁছয়। যদিও সাব-মার্সিবলের সৌজন্যে চাষিরা সেই জল মাত্র দু’হাজার টাকাতেই পেয়ে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের খুব একটা মাথাব্যথা হয় না। যদিও এভাবে জল ব্যবহারে প্রকৃতির উপর যথেষ্ট চাপ পড়ছে। তথ্য বলছে, এক কেজি বোরো ধান চাষে যে পরিমাণ জল প্রয়োজন, তার কয়েকগুণ কম জলেই ডালশস্য চাষ সম্ভব। এতে চাষিদের খরচও কমবে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রচুর পরিমাণ ধান চাষ হয়। চাহিদার তুলনায় আড়াই গুণেরও অনেক বেশি ধান উত্পাদন হয়। যদিও তুলনামূলকভাবে ডালশস্য উত্পাদন কিছুটা কম হয়। এরাজ্যে চাহিদা মেটাতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে তা আমদানি করতে হয়। আধিকারিকদের মতে, রাজ্যে ডালশস্যের উত্পাদন বাড়ানো সম্ভব হলে আমদানির পরিমাণ কমত। সেইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নামার যে আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে তাতেও রাশ টানা যেত।     
বীরভূমের জয়েন্ট ডিরেক্টর অব এগ্রিকালচার(পি) সিড সার্টিফিকেশন আধিকারিক মনিরুল ইসলাম বলেন, বীরভূম রুখাশুখা জেলা। এখানে মাটির তলায় জল অপ্রতুল। শস্য বৈচিত্রকরণের মাধ্যমে কম জলে চাষযোগ্য ডালশস্য, গম, সর্ষে উত্পাদনের মাধ্যমে চাষিদের শ্রীবৃদ্ধি আসবে। তাছাড়া মাটির নীচের জলের ভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কাও কমবে। চাষিদের এব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ