নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আতঙ্কের নাম এসআইআর। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা তো বটেই অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দারাও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। বর্ধমান শহরও তার বাইরে নয়। তার ফায়দা তুলছে দালালরা। অনেকের হাতেই স্মার্টফোন নেই। নেট দুনিয়াতেও বহু মানুষ স্বচ্ছন্দ নয়। সেই ফায়দা তুলছে দালালরা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম দেখার জন্য তারা স্থানীয়দের কাছে টাকা আদায় করছে। কারও কাছে ৩০, আবার কারও কাছে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বর্ধমানের কেষ্টপুর থেকে জামালপুরের আঝাপুর, সব জায়গাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করে দেওয়ার নামেও অনেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সেই কারণেই তাঁরা বেশি বিভ্রান্ত হচ্ছেন। যদিও সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য এসডিও, বিডিও অফিসে হেল্প ডেক্স চালু করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমও চালু আছে। এক আধিকারিক বলেন, কন্ট্রোল রুমে আসা সমস্ত প্রশ্নের জবাব দেওয়া হচ্ছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কী কী তথ্য দিতে হবে, সেটাও স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ’রাও বুথে বুথে ঘুরছেন। তারপরও অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ছেন।
জামালপুরের আঝাপুর এলাকার বাসিন্দা নমিতা বিশ্বাস বলেন, গ্রামে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে। অনেকেই সহযোগিতার নাম করে এসে টাকা হাতাচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, টাকার বিনিময়ে বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে। সেটা দেখালেই ভোটার তালিকায় নাম থাকবে। গ্রামের বাসিন্দা যোগেন বিশ্বাস বলেন, আমাদের কাছে স্মার্টফোন নেই। সেই কারণে তালিকায় নাম রয়েছে কি না বুঝতে পারছি না। তা দেখার জন্য অনেকেই টাকা চাইছে। তাছাড়া বিএলও’রা এখনও সব বাড়িতে পৌঁছতে পারেননি। সেটা নিয়েও অনেকে ধোঁয়াশায় রয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বার্থ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য জেলায় অনেকে আগে থেকেই হিড়িক পড়ে গিয়েছে। ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করতে গিয়ে পাঁচজন প্রতারক গ্রেপ্তার হয়েছে। চক্রটি বহুদিন ধরেই সক্রিয় রয়েছে। এসআইআর আবহে তারা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে গিয়েছে। যদিও আধিকারিকদের দাবি, ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট বা অন্য নথি তৈরি করে ধরা পড়লে বিপদে পড়তে হতে পারে। আর এক আধিকারিক বলেন, সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য ভোটারদের বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। জেলায় ৪৫০৬জন বিএলও কাজ করছেন। তাঁরা ৪১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৯৫জন ভোটারের কাছে পৌঁছবেন। ২০০২ সালের পর জেলায় প্রায় ১৭ লক্ষ ভোটারের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ ভোটারের পরিবারের কারও না কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। তাঁদের নাম খুব সহজেই ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত হবে।