সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনেখালি অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সাব রেজিস্ট্রার অফিসে দালাল চক্রের দাপট। এই চক্রের সদস্যরা ভুয়ো দলিল তৈরি করছে বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে দলিল লেখকরা ২৫ আগস্ট থেকে যে অবস্থান ও কর্মবিরতি পালন করছেন, বৃহস্পতিবার তা ১১ দিন অতিক্রম করল।
আন্দোলনরত দলিল লেখকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই হুগলি জেলার সাব রেজিস্ট্রার অফিসগুলিতে দালালদের বাড়বাড়ন্ত দেখা দিয়েছে। দালাল চক্রের লোকজন সাব রেজিস্ট্রার অফিসারের সখ্য গড়ে বেআইনিভাবে ভুয়ো দলিল তৈরি করে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ইতিমধ্যেই ভুয়ো দলিল নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে আদালতে। সরকারিভাবে নথিভুক্ত দলিল লেখকদের দাবি, অবিলম্বে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে প্রশাসনকে।
পশ্চিমবঙ্গ দলিল লেখক সমিতির হুগলি জেলার সহ সভাপতি আব্দুর রহিম মল্লিক বলেন, দালাল চক্রের লোকজন কম্পিউটারের সাহায্যে পুরনো দলিলের দাগ ও খতিয়ান নম্বর, ক্রেতা-বিক্রেতার নাম এবং জায়গার পরিমাপ পরিবর্তন করে দিচ্ছে। সেই প্রিন্ট দলিল লেখক ও আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই জমা পড়ছে অফিসে। দালাল চক্রের সঙ্গে অফিসের কারও কারও সরাসরি যোগাযোগ থাকায় একাধিক ভুয়ো দলিল তৈরি হয়েছে। এই দালালদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য আমরা রেজিস্ট্রারের কাছে দাবি জানিয়েছি। সব কিছু জেনেও তিনি নির্বিকার। কারা রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জমা দিতে পারবে, তা ১৯৬২ সালের পশ্চিমবঙ্গ রেজিস্ট্রেশন রুলস বইয়ের ১১৭ নম্বর পাতায় ১২৩ ধারায় স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে।
ধনেখালির দশঘড়ার গঙ্গেশনগরের বাসিন্দা প্রতারিত গণেশচন্দ্র সরকার বলেন, আমার দাদুরা তিন ভাই ছিলেন। তাঁরা ১৯৭৫-’৭৬ সাল নাগাদ মারা গেছেন। আমাদের অজান্তেই ২০২২ সালে ভুয়ো দলিলের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ন’বিঘা জমি হস্তান্তর হয়ে যায়। এই বিষয়ে অভিযোগ জানালে সমস্যার সমাধান হয়। কিছুদিন আগে ফের দালালদের নজর পড়ে ওই জমির উপর এবং তারা ফের বেআইনিভাবে ওই হস্তান্তর করে দেয়। মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী ছাড়া কীভাবে জায়গা হস্তান্তর হয়? অবিলম্বে এই দালাল চক্র বন্ধ করা প্রয়োজন।
হুগলি জেলা দলিল লেখক সমিতির অন্যতম নেতা শেখ রায়হান বলেন, রেজিস্ট্রি অফিসে দালাল চক্র বন্ধের দাবিতে ১১ দিন ধরে আমাদের আন্দোলন চলছে। এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে জেলাজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে।
এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ধনেখালি অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট সাব রেজিস্ট্রার শুভজ্যোতি ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বলেন, আপনারা সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছেন। সবই নিয়মমাফিক চলছে। জেলা অফিসকে সব জানিয়েছি। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট ইঙ্গিত, দালাল চক্র বন্ধে তাঁর সেভাবে কোনও ভূমিকা নেই। নিজস্ব চিত্র