নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: ঈদ উপলক্ষ্যে টানা তিন দিন স্কুল ছুটি ছিল। সোমবার স্কুল খুলতেই চাঞ্চল্য ছড়াল কৃষ্ণনগর শহরের কবি নজরুল পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দেখা যায়, স্কুলের বারান্দায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ভাঙা মদের বোতল ও ব্যবহৃত গ্লাস। যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও পড়ুয়ারা। ছেলেমেয়েদের নিয়ে ফিরে যান অভিভাবকরা। ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় স্কুল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কৃষ্ণনগর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লিশ্রীতে স্কুলটি অবস্থিত। এই বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৬৫ জন। বর্ষাকালে জল জমে গেলে পড়াশোনা লাটে ওঠে। পাড়ার ভিতরে স্কুলটি হওয়ায় লোকজনের আসা যাওয়া সেরকম থাকে না। সেই সুযোগই কাজে লাগায় দুষ্কৃতীরা। শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই স্কুলের চত্বর মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। নিত্যদিন সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মদের আসর বসে। যার ফলে স্কুলের পরিবেশ পড়াশোনার উপযুক্ত নেই বলেই দাবি তাঁদের। সোমবার স্কুলে যেতেই দেখা যায়, বারান্দায় ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা বোতল, গ্লাস। স্কুলের দরজায়ও ঝুলে রয়েছে মদের বোতল।
শিক্ষকদের দাবি, এই ঘটনায় স্কুলের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পড়ুয়াদের মনঃসংযোগ নষ্ট হচ্ছে। অভিভাবকেরাও এই পরিবেশে সন্তানদের পড়াশোনা করতে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, স্কুল চত্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত আলো, সিসি ক্যামেরার নজরদারি এবং রাতে গেট বন্ধ রাখা। তা না হলে শিক্ষাঙ্গন অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হবে। এ নিয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বলেন, সকালের দিকে স্কুলের শিক্ষিকারা আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি গিয়ে দেখি, সত্যি স্কুলের ভেতর মদের বোতল পড়ে আছে। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে মদের আসর বসছে যা খুব লজ্জাজনক। এই প্রথম নয়, এর আগেও ওই স্কুলে বহু ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টা আমরা কৃষ্ণনগর পুরসভায় বহুবার জানিয়েছি। বোর্ডের মিটিংয়ে বিষয়টি আমি তুলেছিলাম। যাতে ওই স্কুলে পুনরায় পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় তার সম্পূর্ণ চেষ্টা করব।
অভিভাবক বীথিকা তরফদার আচার্য বলেন, স্কুলের ভিতরে মদের বোতল ভেঙে পড়ে আছে। স্কুলের চারপাশে সাপ পোকামাকড়ের আনাগোনা। তাই আমরা বাচ্চাদের নিয়ে চলে এসেছি। স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছে।
স্কুলের শিক্ষিকা সোমা বিশ্বাস বলেন, যখন আমরা স্কুলে ঢুকছিলাম তখন দেখি স্কুলে অভিভাবকরা ভিড় করে রয়েছেন। তারপর দেখি, স্কুলের বারান্দায় কাচের টুকরো পড়ে রয়েছে। যার জন্য অভিভাবকরা বাচ্চাদের নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, স্কুলের অনেকটাই সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও স্কুলটিকে সাজিয়ে তোলার অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দলীয় কাউন্সিলাররা বোর্ড মিটিংয়ে সেই কাজে বাধা দিচ্ছেন।