সংবাদদাতা, কালনা: গত বর্ষায় নাদনঘাট থানার সোনাকুড়ি গ্রামের লকগেট ভাঙায় খড়ি নদীর জলে বিস্তীর্ণ চাষের জমি প্লাবিত হয়েছিল। ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন বহু চাষি। এক বছর পরেও সেই লকগেট সংস্কার না হওয়ায় এবারও বিস্তীর্ণ চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। গ্রামেও জল ঢুকতে শুরু করেছে। এবার বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকার ১০-১২টি গ্রামের বাসিন্দারা।
নাদনঘাট থানার দোগাছিয়া পঞ্চায়েতের সোনাকুড়ি গ্রামের শেষ প্রান্তে রয়েছে খড়ি নদী। নদীর ওপারে রয়েছে মন্তেশ্বর থানার সুটরা গ্রাম। এক সময় বর্ষায় খড়ি নদীর জল বেড়ে সোনাকুড়ি গ্রাম সহ আশেপাশের মোদাফর, সোদপুর, যশপুর, মীনাপুর, গোকর্ণ প্রভৃতি বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতো। গ্রামবাসীর দাবি মেনে কয়েক বছর আগে সোনাকুড়ি গ্রামে একটি লকগেট তৈরি হয়। তারপর থেকে মিটেছিল গ্রামে জল ঢোকার সমস্যা। কিন্তু গত বছর লকগেটটি জলের চাপে ভেঙে যায়। প্লাবিত হয় এলাকার চাষের জমি সহ একাধিক গ্রাম। বর্ষা মিটলে গ্রামের মানুষ পঞ্চায়েত থেকে ব্লক পর্যায়ে লকগেট সংস্কারের দাবি জানালেও সেই কাজ হয়নি। এবার বর্ষায় খড়ি নদীতে জল বাড়তেই ভাঙা লকগেট দিয়ে হু-হু করে জল ঢুকছে গ্রামে। বিস্তীর্ণ চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে।
জল ঢুকতে শুরু করেছে একাধিক গ্রামের নিচু এলাকাগুলিতে।
এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, গত বর্ষায় লকগেট ভেঙে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবারও বর্ষায় লকগেট দিয়ে ব্যাপকভাবে জল ঢুকছে গ্রামে। বিস্তীর্ণ পাট ও সব্জি চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। গ্রামগুলির নিচু এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। লকগেট সংস্কারের জন্য বহুবার জানানো হয়েছে। মাঝে কয়েকজন অফিসার এসে দেখে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। লকগেট সংস্কার হলে একাধিক গ্রামের মানুষ চাষের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।পঞ্চায়েত প্রধান অপর্ণা চট্টোপাধ্যায় বলেন, লটগেট সারাইয়ের জন্য ব্লকে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন এই বিষয়টি জানে। ইতিমধ্যে ইরিগেশন দপ্তর থেকে অফিসাররা এসে পরিদর্শন করেছেন। জল এতটাই বেশি যে, এই মুহূর্তে সারাই করা যাচ্ছে না। জল কমলেই কাজ শুরু হবে।-নিজস্ব চিত্র