Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্রেনস্ট্রোকের বিশেষ চিকিৎসা সিউড়ি সুপার স্পেশালিটিতে 

ব্রেনস্ট্রোকের বিশেষ চিকিৎসা সিউড়ি সুপার স্পেশালিটিতে 
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে হৃদরোগের বিশেষ চিকিৎসা শুরু হতে চলছে। স্ট্রোক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হবে। এই নিয়ে জেলাস্তরে তিনটি সরকারি হাসপাতালে বিশেষ স্ট্রোক ম্যানেজমেন্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা চালু করল স্বাস্থ্য ভবন। এরজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসদের নিয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁরা কলকাতা এসএসকেএমের চিকিৎসকদের সঙ্গে বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে পরামর্শ নিয়ে রোগীর চিকিৎসা করবেন। ফলে স্ট্রোক হলে আর বেসরকারি হাসপাতালে নয়, সিউড়ি সুপার স্পেশালিটিতেই পরিষেবা পাবেন বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। 
Advertisement
এতদিন সিউড়ির সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠছিল। হাসপাতালে নেই একাধিক রোগের বিশেষজ্ঞ বিভাগ। হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব রয়েছে। তার ওপর সময় মতো চিকিৎসা পরিষেবা না মেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই হাসপাতালে হৃদরোগ ও স্ট্রোক বা সেরিব্রাল অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে বহু রোগী আসেন। কিন্তু রোগীদের জন্য না রয়েছে কার্ডিওলজি বিভাগ এবং না রয়েছে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এই সব রোগীদের ক্ষেত্রে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রেফার করে দেওয়া হতো জেলার অন্য সরকারি হাসপাতালে। এতে চরম সমস্যায় পড়তে হতো রোগী ও তাঁর আত্মীয়দের।  
এবার থেকে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে আশা সিউড়িবাসীর। স্ট্রোক ম্যানেজমেন্ট পরিষেবা মিলবে সিউড়ি স্পেশালিটিতে। একই পরিষেবা মিলবে রাজ্যের আরও দু’টি হাসপাতালে। একটি ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। অন্যটি, বসিরহাট জেলা হাসপাতাল।  জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য সিউড়ি হাসপাতালের চিকিৎসক  পিজির নিউরোলজিতে  প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেই তাঁরা কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সঙ্গে পোর্টালের মাধ্যমে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ নেবেন। এছাড়া যে কোনও সময় সিটি স্ক্যানের ব্যবস্থা থাকবে। কোনও রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জেকশন দিতে হয়। যার দাম প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে প্রায় ১৪০ জনেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন বলে স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি। 
চিকিৎসকদের মতে স্ট্রোক বোঝার উপায় থাকে রোগীর কিছু উপসর্গের মাধ্যমে। কোনও মানুষের হঠাৎ মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া, মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া, প্যারালাইসিস ইত্যাদি উপসর্গ দেখলে দ্রুত তিন ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এ প্রসঙ্গে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, ‘রাজ্যের তিনটি হাসপাতালের মধ্যে আমাদের সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এই স্ট্রোক ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ১৪০ জনের বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন। বিনামূল্যে দামি ইঞ্জেকশন দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে রোগীকে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা সিটি স্ক্যান পরিষেবাও থাকছে। তাই কোন ব্যক্তির স্ট্রোক হওয়ার কোনও উপসর্গ লক্ষ্য করলেই তিন ঘন্টার মধ্যে যেন হাসপাতালে ভর্তি হন। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ