Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চোর অপবাদ, খুঁটিতে বেঁধে বধূকে অত্যাচার, আক্রান্ত মা’ও, অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি

তিন বছর আগে প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ে করে সেই দিনমজুরের সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন যুবতী।

চোর অপবাদ, খুঁটিতে বেঁধে বধূকে অত্যাচার, আক্রান্ত মা’ও, অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: তিন বছর আগে প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ে করে সেই দিনমজুরের সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন যুবতী। শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক না পাওয়ায় তাঁকে অনবরত চাপ দিচ্ছিল স্বামী। মাঝেমধ্যে শারীরিক নির্যাতনও করা হত বলে অভিযোগ। এবার চুরির অপবাদ দিয়ে গত সোমবার ইলেকট্রিক পোলে বেঁধে বধূকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। বধূর মা বাঁচাতে গেলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।

Advertisement

মালদহের চাঁচল ২ ব্লকের সদরপুরের ঘটনায় বধূর পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে বারবার অত্যাচার থেকে মেয়েকে মুক্ত করতে বেশকিছু সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও অত্যাচার কমেনি। কন্যাসন্তান হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি থেকে একাধিকবার তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় গৃহবধূকে। তারই মাঝে চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে জামাইয়ের মারে রক্তাক্ত হন শাশুড়ি। বৃহস্পতিবার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় অভিযোগ জানান নির্যাতিতা বধূ অনুরাধা দাস। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন বছর আগে সম্রাট দাসের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয় অনুরাধার। পরে দুই পরিবার সম্পর্ক মেনে নেয়। কিন্তু দিনদিন নানা অজুহাতে বধূকে নির্যাতন করা হত বলে অভিযোগ। গত সোমবার তাদের কন্যাসন্তানের রুপোর গয়না হারিয়ে যায়। তা নিয়ে বাড়িতে শুরু হয় অশান্তি। অনুরাধা মেয়ের গয়না চুরি করেছেন বলে অপবাদ দেয় শ্বশুর-শাশুড়ি। অভিযোগ, বাবা-মায়ের কথা শুনে স্ত্রীকে বাড়ির বাইরে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখে সম্রাট। তারপর এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। বাবার বাড়ির লোকজন রাতে অনুরাধাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রীকে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে ফের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সম্রাট। স্ত্রী না যেতে চাইলে ফের তাঁকে মারধর করা হয়। অনুরাধার মা উজ্জ্বলা দাস বাধা দিলে তাঁকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে সম্রাট। তাতে উজ্জ্বলার ডান হাত কেটে যায়। চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছে তাঁর।
অনুরাধা বলেন, পণ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর কন্যাসন্তান হলে আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত। সেদিন মার খেয়ে বাবার বাড়িতে এসেও রেহাই পাইনি। নির্মমভাবে মারধর করেছে স্বামী।
নির্যাতনের অভিযোগ মানতে চাননি সম্রাট। বলেন, কাউকে মারধর করা হয়নি। স্ত্রীকে বাড়িতে আনার জন্যই শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলাম। ওরা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। টানাহেঁচড়ার সময় শাশুড়ি পড়ে গিয়ে আঘাত পান। 
চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। • জখম অনুরাধার মা। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ