সংবাদদাতা, চাঁচল: শেষকৃত্যে নিয়ে যাওয়ার খাটে স্ত্রীর ছবি বাঁধিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল স্বামী। তার দু’দিনের মধ্যে সেই গৃহবধূর মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল। ঋণ করে লক্ষাধিক টাকা পণের দাবি মেটালেও মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে পারলেন না বাবার বাড়ির লোকরা। মালদহের রতুয়ার বৈকুণ্ঠপুরে গৃহবধূকে অ্যাসিড খাইয়ে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম তারুণ খাতুন (১৯)। তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। চলছে জেরা।
বধূর বাপের বাড়ির অভিযোগ, পণের দাবিতে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছিল। গত একমাসে তা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারুণের বাপের বাড়ি রতুয়া বাহারাল গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ সাহাপুরে। একবছর আগে বৈকুন্ঠপুরের সম্রাট আনসারির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তারুণ তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী একইভাবে অত্যাচারিত হয়ে ঘর ছাড়েন বলে গ্রামবাসী জানান। বিয়ের পর থেকে পণের দাবিতে তারুণের ওপর তীব্র অত্যাচার শুরু হয়। স্বামী, শ্বশুর বাবলু আনসারি, শাশুড়ি সাবিলা বিবি ও ননদ সোহানি খাতুন একসঙ্গে তারুণকে নির্যাতন করত। এদের মধ্যে শাশুড়ি এই নির্যাতনের মূল কাণ্ডারি। বধূকে ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হত না। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বাপের বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা আনার জন্য বারবার জোর করত স্বামী। কিছুদিন আগে বাপের বাড়ি সেই টাকা দিলেও তারুণের উপর অত্যাচার কমেনি। সোমবারও তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগ, মুখে অ্যাসিড ঢেলে দিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বধূকে রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তারুণের বাপের বাড়ির লোকজন হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, মেয়ের মুখ দিয়ে ফেনা বেরিয়ে রয়েছে। এরপরই স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিস স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ননদ সোহানি চম্পট দিয়েছে।
মৃতার মা বিজলি বিবি বলেন, একমাত্র মেয়ের সুখের জন্য দাবিমতো গয়না, আসবাবপত্র, এমনকী ঋণ নিয়ে এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও ওরা সন্তুষ্ট হয়নি। শ্বশুরবাড়ির লোক মেয়েকে অ্যাসিড খাইয়ে খুন করেছে। জামাই বাড়ি থেকে মেয়েকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। দু’মাস ভাড়া ঘরে থেকে দিন কাটিয়েছে। পরে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নিলে ফের নির্যাতন শুরু করে।
মৃতার মামা শেখ দিলবার বলেন, দু’দিন আগে শেষকৃত্যের খাটে ভাগ্নির ছবি লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জামাই। তারপর থেকে ভয়ে ছিলাম। ও যে মেরে ফেলবে তা ভাবিনি।
চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা বলেন, অ্যাসিড খাইয়ে খুন করা হয়েছে, না কি অন্য কারণে মৃত্যু, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে।