সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরে অষ্টমঙ্গলার আগেই ঘুমন্ত স্বামীকে ঘরে শিকল তুলে দিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে চম্পট দিল স্ত্রী। স্বামীর দেওয়া নতুন মোবাইল, সোনার আংটি এবং নগদ ৫হাজার টাকাও সঙ্গে নিয়ে যান নববধূ। এ ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। মঙ্গলবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে বিষ্ণুপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সকালে বাড়ির সকলে উঠে নববধূকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি আরম্ভ হয়। স্থানীয় কাউন্সিলারকে বিষয়টি জানানো হয়। বধূর বাবাকে ডেকে পাঠানো হয়। অবশেষে বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বিষ্ণুপুর থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন।
বিষ্ণুপুর পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, একসপ্তাহ আগে তাঁর স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাইরে থেকে দরজায় শিকল তুলে দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান এক নববধূ। পরিবারের লোকেরা আমার কাছে এসেছিলেন। বধূর বাবাকেও ডাকা হয়। পরে দু’পক্ষকেই থানায় পাঠানো হয়।
পাত্রের দাদা বলেন, বিয়ের পর ভাতৃবধূর আচরণ সম্পর্কে সন্দেহ জাগলেও বিষয়টিকে আমরা তেমন আমল দিইনি। নতুন বউ হয়ে এসেই ভাইয়ের কাছে দামী মোবাইল, সোনার গয়না এবং সাজগোজের জন্য মোটা অঙ্কের নগদ টাকা আবদার করছিল। সেইমতো একটি মোবাইল ও আংটি কিনে দেওয়া হয়। তার হাতে নগদ ৫হাজার টাকাও দেওয়া হয়। সেগুলো সবই নিয়ে পালিয়েছে। এখন বুঝছি সে আরও কিছু হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল। যদি ইচ্ছা ছিল না তাহলে কেন শুধু শুধু আমার ভাইকে বিয়ে করল সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না। বধূর বাপের বাড়ির লোকেরাও এনিয়ে আমাদের কিছুই জানাননি। আমাদের অপদস্থ হতে হল। পুলিসকে এব্যাপারে জানানো হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবকের সঙ্গে ছাতনা থানার এক যুবতীর চলতি মাসের ৪তারিখে দুই পরিবারের সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়। হঠাৎ বিয়ে হওয়ায় সেরকম অনুষ্ঠান করা হয়নি। তাই আজ বুধবার অষ্টমঙ্গলার দিন ঘটা করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেইমতো তোড়জোড় চলছিল। জিনিসপত্রও কেনাকাটা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বধূর আবদার মেনে তাঁকে সোনার আংটি এবং একটি নতুন মোবাইল কিনে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের জন্য বধূর ঠাকুমা ও বোন তাঁদের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দু’দিন আগেই চলে আসেন। মঙ্গলবার পাত্র ঘুম থেকে উঠে বিছানায় তাঁর স্ত্রী’কে দেখতে পাননি। তিনি ভেবেছিলেন হয়তো তাঁর স্ত্রী ঘুম থেকে আগেই উঠে গিয়েছেন। সেইমতো তিনি দরজা খোলার চেষ্টা করলেও না খোলায় তিনি ডাকাডাকি শুরু করেন। তখন বাড়ির অন্যান্যরা দেখেন ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল তোলা রয়েছে। এরপরেই নববধূর খোঁজ চলে। কিন্তু তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তখনই বধূর বোন জানায় যে তাঁর দিদির সঙ্গে একটি ছেলের আগে থেকেই প্রেম রয়েছে। তবে বিয়ের পরেও সে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যাবে তা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। তখনই পরিবারের লোকেরা একপ্রকার নিশ্চিত হন যে, বধূ তাঁর প্রেমিকের সঙ্গেই রাতের অন্ধকারে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এরপরেই গোটা বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলারকে জানানো হয়। পরে থানায় জানানো হয়।