Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রেমিকের বিয়ের আশ্বাসে ঘর ছেড়ে দীঘায়, সর্বস্ব খুইয়ে ঘাটাল থানায় বধূ

স্বামীর ভালোবাসার কোনও খামতি ছিল না। সাধ্যমতো স্ত্রী’র চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতেন। এক ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার। কিছুদিন আগে স্ত্রী বায়না ধরেছিলেন একটা বড় স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার। সেটাও কিনে দিয়েছিলেন।

প্রেমিকের বিয়ের আশ্বাসে ঘর ছেড়ে দীঘায়, সর্বস্ব খুইয়ে ঘাটাল থানায় বধূ
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: স্বামীর ভালোবাসার কোনও খামতি ছিল না। সাধ্যমতো স্ত্রী’র চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতেন। এক ছেলে, এক মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার। কিছুদিন আগে স্ত্রী বায়না ধরেছিলেন একটা বড় স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার। সেটাও কিনে দিয়েছিলেন। সেই ফোনই যে প্রতারণার ফাঁদে ফেলবে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কোলাঘাট থানার গোপালচকের এক গৃহবধূ! ভাগ্যিস, ফাঁদ কেটে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন বলে সংসারটা ভাঙেনি। তবে, খুইয়েছেন ৬০ গ্রাম সোনার গয়না, ১০০ গ্রাম রুপোর গয়না, দামি মোবাইল ফোন এবং নগদ কয়েক হাজার টাকা। 

Advertisement

ঘটনাটি এরকম—স্বামী স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার পর ইনস্ট্রাগ্রামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন বছর তিরিশের ওই বধূ। সেখানে আলাপ হয় ঘাটালের তেইশ বছরের এক যুবকের সঙ্গে। মাস খানেকের মধ্যেই আলাপ জমে ওঠে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কে। যুবক বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসে। সংসার ভেঙে সংসার গড়তে রাজিও হয়ে যান বধূ। সেই মতো দু’জনের দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিয়ে যান। সেখানেই মুখোশ খুলে যায় প্রেমিকের। বিয়ে করার বদলে সোনার গয়না, মোবাইল, নগদ নিয়ে চম্পট দেয় ঘাটালের ওই যুবক। দীঘা থানার পুলিসের সহায়তায় কোনওরকমে পাঁচ বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন ওই বধূ। মঙ্গলবার প্রতারক যুবকের শাস্তি চেয়ে ঘাটাল থানার দ্বারস্থ হন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্বামী। পুলিস জানিয়েছে, দীঘার হোটেলে জমা দেওয়া আধার কার্ডের ফটোকপি অনুযায়ী প্রতারক যুবকের বাড়ি ঘাটাল থানার মান্দারিয়ায়। লিখিত অভিযোগ হলে পুলিস আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জানা গিয়েছে, ওই বধূর স্বামী রাজস্থানে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন। তাঁদের ১০ বছরের একটি পুত্র সন্তান এবং পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়ি আর দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামেই থাকতেন। 
এদিন ওই বধূ বলছিলেন, ‘নতুন ফোন পেয়েই ইনস্ট্রাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলি। সেখানেই ঘাটাল থানার মান্দারিয়ার ২৩  বছরের এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়। মাস খানেক ফোনে আলাপ করার পরই সে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। আমি আগে-পিছে না ভেবে ওর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই। বাড়ি থেকে সোনা ও রুপোর সমস্ত গয়না, নগদ কয়েক হাজার টাকা, নথিপত্র  এবং মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।’
কথা মতো ওই বধূ গত সোমবার বাগনানে ওই যুবকের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। সেখান থেকেই দীঘার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে গিয়ে একটি লজের রুম ভাড়া নেন। একই রুমে তিন জন রাত কাটান। তারপরই ধীরে ধীরে মুখোশ খুলতে থাকে ওই যুবক। সে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন ওই বধূ। তাঁর নিজের কথায়, ‘পরের দিন সকালে দীঘার মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিলে আমি যুবকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে রাজি হয়ে যাই। মঙ্গলবার সকালে উঠে মন্দিরে বিয়ে করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তার আগে মেয়েকে নিয়ে লজের বাথরুমে স্নান করতে যাই। সেই সুযোগেই যুবক তাঁদের বাথরুমের গেট এবং দরজার গেট লক করে সমস্ত গয়না, মোবাইল এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখি, বেরোনোর সব পথ বন্ধ। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দরজার সামনে চিৎকার শুরু করি। লজের কর্মীরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন।’ রুম থেকে বেরিয়েই গৃহবধূ মেয়েকে নিয়ে সোজা দীঘা থানায় যান। পুলিস ও লজ মালিকের আর্থিক সহযোগিতায় কোলাঘাটে ফিরে আসেন।গৃহবধূ আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুবই মধুর সম্পর্ক ছিল। আমার টাকা, গয়নার অভাব ছিল না। স্বামী আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। আমিও স্বামীকে  নিয়মিত ফোন, ভিডিও কল করতাম। তবুও কেন এই রকম ফাঁদে পড়লাম, নিজেই জানি না। আমার সবচেয়ে খারাপ লাগছে, এরকম একটা জঘন্য কাজ করার পরও বাড়ি ফিরলে স্বামী কোনওরকম দুর্ব্যবহার করেননি। বরং আগের মতোই ভালোবেসে কাছে টেনে নিয়েছেন।’ গৃহবধূর স্বামী বলেন, ‘আমি ওকে পাগলের মতো ভালোবাসি। তাই, কোনওভাবেই আমি ওকে হারাতে চাই না। ভুল তো মানুষই করে। ও তো ভগবান নন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ