নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেসরকারি বি এড কলেজগুলিকে অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে চলছিল দেদার টাকা তোলা। জড়িয়ে রয়েছেন বেশকিছু আড়কাঠি বা মিডলম্যান। তবে, এটা আর জল্পনার পর্যায়ে নেই। বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনো ব্যক্তি, দালাল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী-আধিকারিক নগদ ঘুষ, আর্থিক সুবিধা যেন না নেন। এনসিটিই-র নিয়ম বিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তাবলির ভিত্তিতেই অনুমোদন পাবে কলেজগুলি। স্বচ্ছভাবে এই প্রক্রিয়া চলবে। এর মধ্যে আর্থিক লেনদেনের কোনো জায়গা নেই।
শুধু টাকা নেওয়াই নয়। কোনো কলেজ বা প্রতিষ্ঠান যদি কাউকে ঘুষ দিয়ে ধরা পড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনুমোদন বাতিলই হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে উল্লেখ করা রয়েছে নোটিসে। শুধুমাত্র পঠনপাঠনের মান, শিক্ষক সংখ্যা, পরিকাঠামো এ ধরনের মাপকাঠির ভিত্তিতেই অনুমোদন মিলবে। শুধু অনুমোদন পাওয়ার জন্য বেআইনি আর্থিক লেনদেনই নয়। পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও বেশকিছু কলেজ টাকা তোলে তাদের থেকে। এই অভিযোগ মেলায় বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে তাদেরও।
সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলা, দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুরে বেশ কিছু আড়কাঠির নাম মুখে মুখে ফেরে কলেজ কর্ণধারদের মধ্যে। এঁদের মধ্যে কেউ নিজেও কলেজের কর্ণধার। কেউ আবার কলেজের অধ্যক্ষ। মঙ্গলবার এমনই এক কলেজের অধ্যক্ষকে উপাচার্য অরুণাশিস গোস্বামী কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন বলে খবর। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা বলেন, হয়তো আমাদের কোনো কর্মী বা আধিকারিক যুক্ত নন। তবে, তাঁদের নাম কিন্তু আসছে। তাই শুধু নোটিস দিয়েই দায় সারা হয়নি। সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি কলেজগুলিকে এই নোটিস ই-মেলও করা হয়েছে।