নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চীনা মাঞ্জা গলায় জড়িয়ে শুক্রবার দুপুরে এক যুবক গুরুতর জখম হয়েছে। তাঁর গলায় ২৫টির বেশি সেলাই করতে হয়েছে। খাদ্যনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু খেতে পারছেন না। চিরন্তন ভট্টাচার্য নামে ২৫ বছরের ওই যুবক গুরুতর জখম অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর বিপদ কাটেনি বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। বর্ধমানের ছোটনীলপুরের বাসিন্দা ওই যুবকের মা রুনু ভট্টাচার্য বলেন, ছেলের শরীর রক্তে ভেসে গিয়েছিল। সুতো কেটে অনেকটা গভীরে ঢুকে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে এলাকার বাসিন্দারা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ও কথা বলতে পারছে না। খুব চিন্তায় রয়েছি। ওই যুবকের এক আত্মীয় বলেন, ও শহরের বেচারহাট হয়ে বাড়ি ফিরছিল। সেই সময় আচমকা চায়না সুতো তাঁর গলায় জড়িয়ে যায়। বাইক থেকে ছিটকে পড়ে। ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। হাসপাতালে নিয়ে আসার বেশকিছুক্ষণ পরও রক্ত বন্ধ হচ্ছিল না। অনেক চেষ্টার পর রক্ত বন্ধ করা সম্ভব হয়। চায়না সুতোর ব্যবহার বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। স্থানীয়রা বলেন, শীতের মরশুমে ঘুড়ি উড়ানোর হিড়িক শুরু হয়ে যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘুড়ি উড়াতে চায়না সুতো ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছরও সুতো জড়িয়ে চার-পাঁচজন জখম হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে খণ্ডঘোষের এক যুবকের আঘাত গুরুতর ছিল। অনেক সময় জাতীয় সড়কের উপরও সুতো এসে পড়ে। সেই রাস্তায় কারোও গলায় সুতো জড়িয়ে গেলে বিপদ আরও বাড়বে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চায়না সুতোর ব্যবহার বন্ধ করতে প্রশাসনের কড়াকড়ি নেই। সব জায়গাতেই তা বিক্রি হচ্ছে। তার ফলে দুর্ঘটনা বেড়ে চলছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, চায়না সুতোর ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আগে সচেতনতামূলক প্রচার করা হয়েছে। এবার অভিযান চালানো হবে। যে বা যারা এই সুতো বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিব্যেন্দু সাহা বলেন, রাস্তায় বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে সুতো উড়ে এলে কিছু করার থাকে না। বাইকের নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না। রাস্তায় পড়ে গেলে কোনও গাড়িও চাপা দিয়ে দিতে পারে। যারা ঘুড়ি ওড়াচ্ছে তাদেরকেও সচেতন হতে হবে। অন্য সুতো ব্যবহার করেও ঘুড়ি উড়ানো যায়। এধরনের সুতো বিক্রিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। তা না হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।



