ভারত-০ : ব্রাজিল-৪
ভারত-০ : ব্রাজিল-৪
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ফুটবল এমনই। মুহূর্তে মিলিয়ে দেয় রিও ডি জেনেইরো ও কলকাতাকে। শনিবারের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন যেন সেই মহামিলনেরই সাক্ষী। রিও থেকে আসা ফেলিপে হন্তদন্ত হয়ে গ্যালারির রাস্তা খুঁজছিলেন। তাঁর দু’হাতে অসংখ্য ট্যাটু। গায়ে ভিনিসিয়াস লেখা জার্সি। হঠাৎই সামনে দেখেন রবীন্দ্রগরের দিবাকরকে। তাঁর পরণেও ব্রাজিলের হলুদ টি-শার্ট। ফেলিপের দু’চোখে বিস্ময়। ঘোর কাটালেন বাঙালি তরুণ। ভাঙা ভাঙা ইংরাজিতে তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘বিশ্বকাপের সময় আমরাও ব্রাজিলের অনুরাগী। রোনাল্ডিনহো-রোনাল্ডোরা আমাদের কাছের লোক।’ এরপর গ্যালারির পথ বাতলে দিলেন তিনি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ফেলিপে।
এমন ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’র কোলাজে রঙিন হয়ে উঠল কলকাতা। হাতে ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা থাকলেও মাথায় হলুদ ফেট্টি পরে অনেকেই খেলা দেখলেন। যুবভারতীর পাশে এক পাঁচতারা হোটেলের সামনে ঢেলে বিক্রি হচ্ছে ভারত আর ব্রাজিলের ফ্ল্যাগ। দোকানদার বললেন, ‘স্টেডিয়াম ভরে যাবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। না হলে বিক্রি আরও ভালো হত। ’
টিকিট নিয়ে এদিন যত কাণ্ড যুবভারতীতে। ৩ এবং ৩ এ গেটের সামনে চার-পাঁচজনের টিকিট হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় কেপমাররা। ম্যাচের প্রায় ঘণ্টা দুয়েক আগে হঠাৎই সেখানে শোনা যায়, ‘ধর ধর ধর’ শব্দ। কিন্তু ততক্ষণে দোষী পগার পার। এছাড়া হাফ টিকিট-বিভ্রান্তিতে ক্ষুব্ধ দর্শকরা। তবে ম্যাচ শুরু হতেই সব ক্ষোভ শান্ত। সাম্বা ম্যাজিক বনাম ব্লু টাইগার্স লড়াইয়ে মন প্রত্যেকের। এটাই ফুটবল।
অনেকে আশা করেছিলেন, আনসেলোত্তির ব্রাজিলের বিরুদ্ধে লড়াকু ফুটবল উপহার দেবে ভারত। প্রথম গোল হজমের আগে সেই আশা বাড়ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের নাম ব্রাজিল। জার্সিতে পাঁচটি তারা জ্বলজ্বল করছে। তাই যুবভারতীর মন জিততে অসুবিধা হল না তাঁদের। ২৮ মিনিটে এস্তেভাওর গোলই খালিদের আশার প্রদীপ ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেয় (১-০)। বিরতির মিনিট তিনেক আগে ব্যবধান বাড়ান পেড্রো (২-০)। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই দায়ী ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু। প্রথমার্ধে ভারতও হাফ চান্স পেয়েছিল। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি মনবীর।
ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ মাঠে বসে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মিঠুন চক্রবর্তীরা। গ্যালারিতে হাজির সমর্থকদের মতো তাঁরাও ভারতের লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তৃতীয় গোল তুলে নেয় ব্রাজিল। ৫৮ মিনিটে স্যামুয়েল লিনোর শটের নাগাল পাননি পরিবর্ত হিসেবে নামা প্রভসুখন গিল (৩-০)। এরপর ভারত অবশ্য বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানায়। কিন্তু পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জাল কাঁপানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। তা সত্ত্বেও ভারতীয় সমর্থকদের উৎসাহে খামতি ছিল না। বিশ্বকাপের সময় যে কণ্ঠে তাঁরা রিকি মার্টিনের ‘ওলে ওলে ওলে’ গেয়ে ওঠেন, তাঁরাই এদিন ফুটবলের মিলনমেলায় আনোয়ার-মনবীরদের উজ্জীবিত করার দায়িত্ব নিলেন। কিন্তু সংযোজিত সময়ে লিনোর লক্ষ্যভেদ ভারতীয় অনুরাগীদের মুখে কুলুপ এঁটে দেয় (৪-০)।