সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলস্তর বেড়েছে ব্রহ্মানী নদীর। ফলে বৈধরা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া শুরু হয়েছে। তাতেই শুক্রবার সকাল থেকে নলহাটির দেবগ্রাম ঘাটের কজওয়ে চলে গিয়েছে জলের তলায়। যার জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন নলহাটি ১ ও ২ ব্লকের হাজার হাজার মানুষ। নলহাটির রামেশ্বরপুর, বুজুং, সরধা, রামপুর, সহ প্রায় ২০টি গ্রামকে ঘিরে রেখেছে ব্রহ্মানী নদী। বাসিন্দাদের নলহাটি শহর, রামপুরহাট বা মুর্শিদাবাদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ব্রহ্মানী নদীর কজওয়ে। অন্যদিকে নদীর ওপারের দেবগ্রাম, ভদ্রপুর, রায়পুর, কৃষ্ণপুর সহ প্রায় ৩০টির বেশি গ্রামের চটজলদি রামপুরহাট মেডিক্যাল, তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠ ও মহকুমা শহর রামপুরহাটের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম ওই কজওয়ে। যদিও যোগাযোগের অন্যতম উপায় রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক রয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত গ্রামের মানুষদের কাছে সেটি অনেকটাই ঘুরপথ। গ্রীষ্মে বহু মানুষ ও ছোট যানবাহন কজওয়ের উপর দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু দিন কয়েক ধরে প্রায়ই ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তেমনি লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হওয়ায় ব্রহ্মানী নদীর বৈধরা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয়েছে। তাতেই দেবগ্রামের কজওয়ে জলের তলায় চলে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিগত বছরগুলিতে বর্ষার সময় কজওয়ে ডুবে গেলে নৌকা চলাচল করত। কিন্তু এই মুহূর্তে মাঝিরা প্রস্তুত না থাকায় নদীতে নৌকা নামাতে পারেনি। ঝুঁকি নিয়ে যাতে কেউ পারাপার না করে সেজন্য ঘাটে পুলিসের পক্ষ থেকে বাঁশ পুঁতে দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন দুই পাড়ের মানুষ। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্রিজের দাবি জানিয়ে এলেও আজও হয়নি। এই ব্রিজ হলে নদীর দু’ পারের মানুষের রামপুরহাট সঙ্গে দূরত্ব প্রায় ১২ কিমি কমে আসবে। কৃষি ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটবে। তেমনি বর্ষায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হবে না।



