নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ভ্যানের উপর রক্তাক্ত অবস্থায় শায়িত এক যুবক। বাবা ছুটে গিয়ে দেখেন যুবকটি তাঁরই ছেলে। উদ্ধার করে হাসপাতালে ছুটলেন তিনি। শেষরক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়ে দিলেন যুবক মৃত। বুধবার সকালে হাঁসখালি থানা এলাকার এই ঘটনায় পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ এনেছে মৃতের পরিবার। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হাঁসখালি থানার পুলিস।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম অভিজিৎ সরকার। বছর পঁচিশের ওই যুবক হাঁসখালি থানার ভৈরবচন্দ্রপুর হুদা চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা। ভিনরাজ্যে সিটি গোল্ডের ব্যবসা রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি সেখান থেকেই হাঁসখালিতে নিজের বাড়ি ফেরে অভিজিৎ। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িতেই ছিল সে। রাত আটটা নাগাদ ওর মোবাইলে একটি ফোন আসে। হঠাৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান অভিজিৎ। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মৃতের বাবা অজয় সরকার বলেন, ‘ভোররাত প্রায় তিনটে নাগাদ একটি ছেলে এসে খবর দেয় বাড়ির সামনে একটি ভ্যানে নাকি আমার ছেলেকে কেউ রেখে গিয়েছে। সে নাকি অসুস্থ। আমরা সবাই তখন ছুটে যাই। গিয়ে দেখি আমার ছেলে প্রায় নিথর। রক্ত লেগে রয়েছে শরীরের বেশকিছু জায়গায়। রাস্তাতেও রক্তের দাগ। ওরা আমার ছেলের দেহ নদীতে ভাসিয়ে দিতে নিয়ে যাচ্ছিল বলে আমার অনুমান। কিন্তু সেটা না পারায় বাড়ির সামনে এনে রেখে দিয়ে চলে যায়। ছেলের এক বন্ধুকেই আমার সন্দেহ হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই। পুলিস তদন্ত করে অভিযুক্তকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।’
এদিকে, পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। তারা জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অভিজিতের বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিস। কিন্তু রাতে কে ফোন করেছিল? যার ফোন পেয়ে অভিজিৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, সেই সূত্রটি স্পষ্ট হয়ে গেলে তদন্তের অগ্রগতি বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও খুনের বিষয়টি স্পষ্ট করতে চায়নি পুলিস। তাদের দাবি, মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পরেই জানা সম্ভব। রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হলেও শরীরের বাইরের অংশে কোনও ক্ষতচিহ্ন মেলেনি। তাই খুন নাকি অন্যভাবে মৃত্যু, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বন্ধুদের মধ্যে বচসার জেরে ওই যুবক খুন হয়েছেন নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই যুবক কাদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন, তাঁর সঙ্গে কারও পূর্ব শত্রুতা ছিল কি না, সেটাও আতস কাচের তলায় রাখা হচ্ছে। একই যুবকের ফোনের কললিস্টও খতিয়ে দেখা হবে।