নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভালোবাসায় অসহায়তার ঠাঁই নেই। ভালোবাসার মধ্যে লুকিয়ে থাকে হার না মানার প্রতিজ্ঞা। আপনজনকে কাছে পাওয়ার উন্মাদনায় সবকিছুই যেন ত্যাগ করা যায়। ঠিক যেমনটা করে দেখালেন মেমারি থানা এলাকার এক যুবতী। তাঁর বাড়ির লোকজন প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না। অনেকভাবেই তাঁকে বোঝানো হয়। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। প্রেমিককে পেতেই হবে। প্রয়োজনে বাড়ি ছাড়তেও তিনি রাজি। বাড়ির লোকজনদের অনড় মনোভাব দেখে তিনি প্রেমিকের হাত ধরে সোজা পৌঁছে গেলে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। রাঢ়বঙ্গের আরাধ্য দেবতার সামনে প্রেমিক তাঁর সিঁথি রাঙিয়ে দিলেন। দু’জনেই মনে মনে এক হয়ে পথ চলার শপথ নিলেন। তাঁরা যখন মন্দিরে বসে আগামী পথ চলার রূপরেখা ঠিক করছেন, সেই সময় যুবতীর বাড়ির লোকজন থানায় হাজির হন। মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে পুলিস। ঠিক সেই সময়ই বরের হাত ধরে থানায় হাজির নববধূ। টানটান চিত্রনাট্য। কী হয়, কী হয় পরিবেশ। ‘আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। আমি স্বেচ্ছায় ওঁকে বিয়ে করেছি। একজন সাবালিকার এই অধিকার আছে’।
নববধূর বেশে থাকা যুবতীর মুখ থেকে এই কয়েকটি শব্দ বেরিয়ে আসার পরই সেই চিত্রনাট্যে পর্দা পড়ল। একদম সিনেমার কায়দায় বরের হাত ধরে শ্বশুরবাড়ি রওনা দিলেন নববধূ। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এ কী যুগ এল বলুন তো? ছেলেমেয়েদের কাছে বাবা-মায়ের কথার কোনও গুরুত্বই নেই? তারা যা ভাববে সেটাই করবে। আমাদের সময়ও প্রেম ছিল। কিন্তু ভালোবাসার এই রূপ ছিল না।
পুলিস জানিয়েছে, সাবালক বা সাবালিকারা তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। ১৮বছরের নীচে হলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এই তো কয়েকদিন আগেই দেওয়ানদিঘি থানা এলাকার এক প্রেমিকা বাড়ির অমতে তার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করার জন্য জেদ ধরেছিল। প্রেমিকের সঙ্গে এলাকার মন্দিরে হাজিরও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাদের আশা পূরণ হয়নি। প্রেমিকা নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ১৮ বছরের আগেই সে সংসার পাততে চেয়েছিল। সেটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। জেলায় নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করার জন্য প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, যে বা যাঁরা নাবালিকাদের বিয়ে দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নাবালক-নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু পাত্র বা পাত্রী নির্দিষ্ট বয়সসীমা অতিক্রম করলে আর কারও কিছু করার থাকে না। তাঁদের মনে বসন্তের উদয় হলেই চার হাত এক করে নিতে পারেন। যেমনটা করে দেখালেন মেমারির ওই যুগল।