সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: গত ডিসেম্বরে ময়নাগুড়ি শহরে হয়েছিল জলপাইগুড়ি জেলা বইমেলা। সাত মাস হতে চলল, এখনও বইমেলার খরচের হিসেব পাননি কমিটির সদস্যরা। এনিয়েই বাড়ছে বিতর্ক। বইমেলা কমিটির কার্যকরী সম্পাদক পদে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা ময়নাগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মনোজ রায়, হিসেবরক্ষক ছিলেন প্রসেনজিৎ রায়। তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলার তুহিনকান্তি চৌধুরী। যা নিয়ে আরও জলঘোলা হয়েছে। বইমেলা কমিটির কর্মকর্তাদের একহাত নিয়ে বিজেপির দাবি, ওরা টাকা আত্মসাৎ করেছে। যদিও হিসেবরক্ষক জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার হিসেব প্রকাশ করা হবে।
বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক চঞ্চল সরকার বলেন, ওরা হিসেব কোথা থেকে দেবে, সব টাকা তো আগেই খেয়ে নিয়েছে। তাই বইমেলা শেষ হওয়ার সাত মাস হতে চললেও এখনও হিসেব প্রকাশ করতে পারল না।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পুরসভার তত্ত্বাবধানে ফুটবল খেলার মাঠে হয়েছিল ৩৬তম জেলা বইমেলা। রাধিকা লাইব্রেরি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও অনেক স্যুভেনির বিতরণের অভাবে গ্রন্থাগারেই পড়ে আছে।
তুহিনকান্তি বলেন, আমি কমিটির সদস্য ছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও হিসেব কর্মকর্তারা দিতে পারেননি। আয়-ব্যয়ের হিসেবে কী কোনও অনিয়ম হয়েছে, এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তাই বাধ্য হয়ে মুখ খুলেছি।
আনন্দনগর পাড়ার বাসিন্দা বিশু সেন বলেন, আমিও কমিটিতে ছিলাম। সদস্যদের মধ্যে কথা উঠতে শুরু হয়েছে হিসেব নিয়ে। দ্রুত হিসেবে বুঝিয়ে দেওয়া হোক। কোথা থেকে কত টাকা এসেছে, কত টাকা খরচ হয়েছে এটা তো সকলকে জানাতে হবে।
পুরসভার চেয়ারম্যান অনন্তদেব অধিকারীও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, মনোজবাবু মূল দায়িত্বে ছিলেন। আমিও কমিটিতে ছিলাম। তবে, আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসেব জানি না।
বইমেলা কমিটির কার্যকরী সম্পাদক মনোজ রায় বলেন, এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে হিসেব দিতে দেরি হচ্ছে। তবে, আর একটু গুছিয়ে নিয়ে সব হিসেব বুঝিয়ে দেব।