Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমি বিবাদে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমাবাজি, গুলি

জমি বিবাদে সোমবার গভীর রাতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া

জমি বিবাদে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমাবাজি, গুলি
  • ২৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: জমি বিবাদে সোমবার গভীর রাতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া। হরিহরপাড়া থানার চোঁয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরপুর পূর্বপাড়া এলাকায় বোমাবাজি হয়। কয়েক রাউন্ড গুলিও চলেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় দু’ জন জখম হয়েছে। গুলিবিদ্ধ নাজিমুদ্দিন শেখ ওরফে কালু কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলেই জানিয়েছে পুলিস। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল, কালু শেখ, রিপন শেখ, মনোহর শাহ ও নজরুল শেখ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এই ঘটনায় প্রায় ১২-১৩ জন দুষ্কৃতী জড়িত বলে জানতে পেরেছে পুলিস। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাজিরপুর এলাকার কিছু জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। সোমবার রাত বারোটা নাগাদ এক গোষ্ঠীর লোকজন বোমা নিয়ে অপর গোষ্ঠীর সদস্য কালুর বাড়িতে হামলা চালায়। উদ্দেশ্য ছিল, ওই বিতর্কিত জমিতে বসবাসকারী কিছু পরিবারকে উচ্ছেদ করা। সেই সময়ে দু’ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দুষ্কৃতীরা এলাকায় বোমাবাজি করার পাশাপাশি গুলি চালাতে থাকে। কালুর পায়ে গুলি লাগে। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে তাঁকে হরিহরপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ রেফার করা হয়। ভোর রাতে সেখান থেকে কলকাতার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
যদিও জখম ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের দাবি, নাজিমুদ্দিনকে বাড়িতে এসে গুলি করেছে গ্রামেরই কয়েকজন বাসিন্দা। এলাকার একটি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদের জেরেই সোমবার গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে হামলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দু’পক্ষই শাসক দলের কর্মী। এদিকে আহত কালুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, সংঘর্ষে যুক্ত থাকার অভিযোগে কালু শেখ, রিপন শেখ, মনোহর শাহ এবং নজরুল শেখ নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। 
বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, বাংলায় বিরোধী বলতে কিছু নেই। যেখানেই যা মারামারি হবে তা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল ছাড়া কিছু নয়। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী ছাড়া এখানে কে মারপিট করবে? লুট করার আর কোনও জায়গা নেই। লুট করার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। জমি জায়গা কেড়ে নিচ্ছে সব। মারামারি তো হতেই হবে। 
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা শামসুজ্জোহা বিশ্বাস বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। দু’ দল গ্রামবাসীদের মধ্যে একটি জমিকে কেন্দ্র করে বিবাদে সংঘর্ষ হয়েছে। 
বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, হরিহরপাড়ায় শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জমি জবরদখল নিয়ে এখন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই চলছে। শাসকদলের আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা বোমা, বন্দুক নিয়ে অরাজকতা তৈরি করছে। স্থানীয় পুলিস প্রশাসন সবই জানে। তবে তারা শুধু শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ