সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার ওকড়সা বাসস্ট্যান্ডে তিন মাস আগে এক তৃণমূল কর্মীর লটারির দোকানে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে তেতে উঠেছিল মুলটি গ্রাম। দু’মাস ধরে ধাপে ধাপে মুলটিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল অস্ত্র ভাণ্ডারের হদিশ পায় পুলিস। উদ্ধার করা হয় ছোট থেকে বড় সব রকম আগ্নেয়াস্ত্র। প্রচুর গুলিও উদ্ধার করা হয়। পুলিসের দাবি, এত আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা হয়েছিল এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’মাস ধরে মুলটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে পাঁচ দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাদের কাছ থেকে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়। এমনকী দেড় কেজি বোমার মশলাও উদ্ধার করে পুলিস। কেন দুষ্কৃতীরা বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করেছিল। কোথা থেকেই তা জোগাড় করা হয়েছিল, এসব নিয়ে এখনও তদন্ত করছে কাটোয়া থানার পুলিস।
কাটোয়া-২ ব্লকের শ্রীবাটি অঞ্চলের মুলটি গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী সাফারুল শেখের ওকড়সা বাসস্ট্যান্ডের মোড়ে লটারির দোকানে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। সাফারুল শেখের মামা সেরাজুল হক মণ্ডল ওরফে সেরাই এলাকায় দাপুটে তৃণমূল নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। অনেকেই বলছেন, এলাকায় শাসকদলের দু’টি গোষ্ঠী রয়েছে। প্রায়ই দুই গোষ্ঠীর বিবাদ লেগে থাকে। এরপর ১২ মার্চ মুলটি গ্রামে আজিজুল শেখ ওরফে আজলু নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে অনেকগুলি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়।
কী নেই অস্ত্রভাণ্ডারে! ছোট ওয়ান শটার, পাইপগান থেকে বড় এক নলা বন্দুক পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে। মুলটি গ্রামের পাশেই পূর্বস্থলী থানা এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। সেগুলি দুষ্কৃতীদের আখড়া। অতীতে পূর্বস্থলীর দুষ্কৃতীদের সঙ্গে মুলটি গ্রামের দুষ্কৃতীদের যোগসাজশ মিলেছে। সূত্রের খবর ওইসব এলাকা থেকেই হাত বদল করে নাকি আমদানি করা হতো দেশি পিস্তল।
২০২১ সালেই মুলটি গ্রামের কাছেই লোহাপোতা গ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র কারখানার হদিশ মিলেছিল। প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। গ্রামে দুষ্কৃতীরা মাটির বাড়ির ছোট্ট ঘরে বসে ইউটিউব দেখেই অস্ত্র তৈরি শিখত। ইন্টারনেট ঘেঁটে অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করত। ছোট ছোট দেশি পিস্তল থেকে শুরু করে বড় বন্দুকও তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই দিত সে। তবে মুলটি গ্রামে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ঘিরে রীতিমতো চমকে উঠেছেন বাসিন্দারাও। তবে এর আগে নদীয়া থেকে পূর্ব বর্ধমানে বহু মহিলা ক্যারিয়ার আগ্নেয়াস্ত্র সাপ্লাই করতে কাটোয়া থানার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা প্রতিবারই রাতে ভাগীরথী ফেরিঘাট পেরিয়ে মাটিয়ারির দিক থেকে এসেছিল। তাই পুলিস কাটোয়া থানা এলাকার আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকার সমস্ত রাস্তায় নজরদারি বাড়িয়েছে।-নিজস্ব চিত্র