নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রবিবার রাতে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে বোমাবাজি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। জখম হয়েছেন দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজন ভর্তি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পুলিস পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হল, লালচাঁদ শেখ, লাল্টু শেখ, সাহিদুল শেখ, মিরাজ শেখ ও মতিন শেখ। তাদের বাড়ি নাজিরপুর এলাকাতেই। অভিযুক্তদের বাড়িতে সোমবার দিনভর তল্লাশি চালায় পুলিস ও বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা। সেখান থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও দু’টি ওয়ান শটার উদ্ধার হয়েছে। বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, আমরা খবর পেয়ে নাজিরপুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছি। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও অল্প কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।
রবিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার নাজিরপুর এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে পুরানো বিবাদের জেরে ফের সংঘর্ষ বাঁধে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরীর গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি আতাউর রহমানের গোষ্ঠীর রেষারেষিতেই এই সংঘর্ষ। পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে একটি খুনের মামলার রেশ ধরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সে সময়ে যারা আক্রান্ত হয়েছিল তাদের উপরই প্রথমে হামলা হয় বলে অভিযোগ। তারা নাজিরপুর থেকে রবিবার সন্ধ্যায় ব্যবসার কাজে কাশিপুরে গিয়েছিল। সে সময়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা তাদের উপর হামলা চালায়। তখন দুষ্কৃতীদের পাল্টা মারের জন্য নাজিরপুর থেকে বেশ কিছু লোক কাশীপুর যায়। তখন পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্তরা। সেখানে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এরপর পাল্টা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠছে। ঘটনায় খবর পেয়ে এসডিপিও বেলডাঙা ও রেজিনগর থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিস পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। দায়ের হয়েছে মামলা। পাল্টা মামলাও রুজু হয়েছে। ফেরার বেশ কিছু অভিযুক্ত। ঘটনায় জড়িত বাকিদের খোঁজ চলছে বলেই জানিয়েছে পুলিস।
তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, পুরনো একটা বিবাদ থেকেই এদিনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও বারবার থানাকে জানালেও পুলিস সেভাবে ব্যবস্থা নেয়নি। তাহলে আজ এই ঘটনা ঘটত না। জেলা পুলিসের আধিকারিকদের বলেছি, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
প্রাক্তন ব্লক সভাপতি আতাউর অবশ্য সিপিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত ভোটের সময় একটি খুনের ঘটনা ঘটে। সেটি এখন বিচারাধীন। আসামি পক্ষের লোকজন নদীয়াতে বসবাস করছিল। সাত মাস আগে তাদের মধ্যে একজনকে পলাশী বাস স্ট্যান্ড থেকে তুলে এনে নাজিরপুরে মারধর করে কয়েকজন। কোর্টের নির্দেশ মতো তারা জামিন পেয়ে বসবাস করছিল। নাজিরপুরের সিপিএমের কিছু দুষ্কৃতী সেখানে গিয়ে তাদের তুলে আনার চেষ্টা করছিল। তবে পারেনি। তাই সেখানে একটা অশান্তি হয়েছিল। রেজিনগরের সিপিএম নেতা বদরুদ্দিন বলেন, যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নাজিরপুরের দুই যুবক কাশীপুরে ব্যবসার কাজে গিয়েছিল। সেখানে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তরা যারা দীর্ঘদিন গ্রাম ছাড়া ছিল, তারাই থানায় গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। তার ভিত্তিতে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। আমরা বলব, নিরপেক্ষ তদন্ত করে যারা আসল অন্যায় করেছে, তারা যাতে শাস্তি পায় সে ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।