Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল নেত্রীকে লক্ষ্য করে বোমা, বরাতজোরে প্রাণরক্ষা, পুরনো শত্রুতার জেরে হামলা?

তৃণমূল নেত্রীকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল বোমা। তবে  বরাতজোরে প্রাণরক্ষা হয়েছে তাঁর। পুলিস সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বাড়ি গঙ্গারামপুরের যাদববাটি এলাকাতেই।

তৃণমূল নেত্রীকে লক্ষ্য করে বোমা, বরাতজোরে প্রাণরক্ষা, পুরনো শত্রুতার জেরে হামলা?
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: তৃণমূল নেত্রীকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল বোমা। তবে  বরাতজোরে প্রাণরক্ষা হয়েছে তাঁর। পুলিস সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বাড়ি গঙ্গারামপুরের যাদববাটি এলাকাতেই।

Advertisement

সোমবার বিকেলে গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য উর্মিলা সরকার ও তাঁর স্বামী বকুল সরকার নয়াবাজার এলাকায় মেয়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন বাইকে। গঙ্গারামপুরের নন্দনপুর যাদববাটি তিনমাথা মোড়ের সামনে তৃণমূল নেত্রীকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। বাইক ছেড়ে দু’জন পালাতে গেলে আবার দুষ্কৃতীরা বোমা ছোড়ে। বিকট আওয়াজে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর উর্মিলা ও তাঁর স্বামী চিৎকার করতে থাকেন। আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষ এসে রক্ষা করেন নেত্রীকে। 
খবর পেয়ে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার বিশাল পুলিসবাহিনী। সদস্যদের পাশাপাশি পুলিস ঘটনাস্থল থেকে বোমার অংশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পারে, পাঁচজনের একটি দল এদিন হামলা চালিয়েছিল। তাদের মধ্যে দু’জনকে চিহ্নিত করেছেন অভিযোগকারীর স্বামী। রাতেই গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তবে, অভিযুক্তরা পলাতক।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ২০২২ সালে যাদববাটি এলাকার নার্সিং পড়ুয়া উদ্ধব সরকারের দেহ উদ্ধার হয় উত্তর ২৪ পরগনার একটি নার্সিং কলেজে। ঘটনায়  তৃণমূল নেত্রী উর্মিলা সরকারের ছেলে বিক্রম সরকারের নামে অভিযোগ দায়ের করেছিল মৃত ছাত্রের পরিবার। তারপর বিক্রমকে গ্রেপ্তার করা হয়।  তখন থেকেই যাদববাটি এলাকার মৃত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর পরিবারের বিবাদ চলছিল। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই হামলা বলে চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়।  
যদিও তৃণমূল সদস্য দাবি করেছেন, এই ঘটনার পিছনে বিজেপির মদত রয়েছে। উর্মিলার কথায়, সোমবার রাতে আমাকে ও স্বামীকে খুন করতে বোমা ছোড়া হয়। হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে আমার স্বামী চিনতে পেরেছেন। এলাকার দিলীপ সরকারের ছেলের নার্সিং পড়তে গিয়ে মৃত্যু হয়। আমার ছেলেকে ফাঁসানোয় জেল পর্যন্ত হয়েছে। তারপর আমাদের প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি পুলিসকেও জানানো হয়েছে। অভিযুক্তরা বিজেপির ছত্রছায়ায় আছে। অভিযুক্ত পরিবারের সদস্য অরুণ সরকার বলেন, আমাদের জব্দ করতে উর্মিলাদেবীরাই পরিকল্পনা মাফিক এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই। তাঁর বাড়িতেই আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা পাওয়া যাবে।
জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালের বক্তব্য, এদিনের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই হামলা চালানো হয়েছে। আইন আইনের পথে চলবে।
জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরীর মন্তব্য, নন্দনপুর এলাকা বোমা,গুলির স্তুপে আছে। প্রশাসনকে বারবার বলেও কিছু হয়নি। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্যই এই আক্রমণ। প্রশাসন দোষীদের গ্রেপ্তার করুক। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।
গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিস আধিকারিক দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ হয়েছে। দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ