সংবাদদাতা, বালুরঘাট: আজ, শুক্রবার শুরু হচ্ছে বালুরঘাটের ঐতিহ্যবাহী বোল্লা মেলা। সকাল থেকেই নামবে ভক্তের ঢল। তার আগে বৃহস্পতিবার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। মেলার নিরাপত্তায় পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের এসপি চিন্ময় মিত্তাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল। সূত্রের খবর, মেলায় দু’হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবেন। জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ পদাধিকারীরাও মেলা চত্বরে থাকবেন। সিসি ক্যামেরা, ড্রোনেও চলবে নজরদারি। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্ মেলায় ভক্তদের নিরাপত্তায় কোনও ফাঁকফোকর রাখতে চাইছে না পুলিশ। এসপি বলেন, ভিন জেলা, এমনকী, রাজ্যের বাইরে থেকেও প্রচুর ভক্ত আসবেন। তাঁদের নিরাপত্তায় প্রায় ২ হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবে। মহিলা পুলিশ কর্মীও থাকবে।
বোল্লা মেলা চারদিনের। এই পুজো ও মেলায় জেলা ও জেলার বাইরের প্রায় ৮ জন ডিএসপি র্যাঙ্কের অফিসার মোতায়েন থাকবেন। জেলার ৮ থানার আইসি থাকছেন। জেলার বাইরে থেকে ইন্সপেক্টর আনা হচ্ছে। প্রায় ৫০ জন এসআই ও এএসআই থাকবেন। থাকবে কমব্যাট ফোর্সের টিম, তিনটি উইনার্স বাহিনী, দু’টি পিঙ্ক মোবাইল ভ্যান। মন্দির চত্বর সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। ভিড়ে পকেটমারি ও চুরি রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশ এবং ইভটিজিং রুখতে মহিলা বাহিনী থাকছে। পর্যাপ্ত সিভিক ভলান্টিয়ারও মোতায়েন করা হচ্ছে। জাতীয় সড়ক থেকে মন্দির, খাসপুরের রাস্তাতেও থাকবে পুলিশ। এবছর পুলিশের তরফে পার্কিংয়ের জায়গা বাড়ানো হয়েছে।
এদিন মায়ের মূর্তিতে শেষ মুহূর্তের তুলির টান দিতে ব্যস্ত ছিলেন মৃৎশিল্পীরা। বোল্লা মায়ের সাজসজ্জার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। শুক্রবারও মায়ের সাজসজ্জার কাজ চলবে। প্রায় ২০ কেজি সোনা ও রুপোর অলংকার দিয়ে বোল্লা মাকে সাজানো হবে। শুক্রবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারিতে বোল্লা মাকে গয়না পরানো হবে।
মেলা চত্বরে দোকানপাটও বসে গিয়েছে। এদিনও ট্রেনে, বাসে হাজার হাজার মানুষ বালুরঘাটে এসেছেন। ভিড় এড়াতে এদিন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলার মানুষ হাজির হয়েছেন বালুরঘাটে। কেউ হোটেলে উঠেছেন। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে ঠাঁই নিয়েছেন। পুজো কমিটির সহ সভাপতি স্বর্ণেন্দু মণ্ডল বলেন, পুজোর প্রস্তুতি শেষ। মূর্তির কাজও শেষ। শুক্রবার সকালে মাকে গয়না পরানো হবে।