সংবাদদাতা,খাতড়া: অর্ধেক খাওয়ার পরেই বিরিয়ানির প্লেটের মধ্যে উদ্ধার সেদ্ধ টিকটিকি! এই ঘটনায় ওই বিরিয়ানি খেয়ে আতঙ্কিতরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান দোকানে। খাতড়া বাজারের সিনেমা হলের কাছে শনিবার একটি বিরিয়ানির দোকানে এই ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে যায়। নিমেষের মধ্যে খাতড়া বাজারে এই ঘটনার কথা চাউড় হতেই কৌতুহলী মানুষ ভিড় জমান দোকানের সামনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অভিযোগকারী তার ছোটো বাচ্চা মেয়েকে ডাক্তারের পরামর্শে শুক্রবার রাতেই খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সবকিছু ঠিক থাকায় শনিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই মেয়েটিকে বলে জানা গিয়েছে। তবে ওই দোকানের কর্মীরাও দাবি করেন, তাঁদের অজান্তেই এমন ঘটেছে। এমনকি তাঁরাও ওই বিরিয়ানি খেয়েছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে শনিবার সকালে এনিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে খাতড়া থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাতড়া থানার সিমলার দামোদরপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণ রুইদাস, তিন বাচ্চা সহ পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে মুকুটমণিপুর বেড়াতে গিয়েছিলেন। মুকুটমণিপুর থেকে ফিরে রাতের খাবার খেতে তাঁরা খাতড়ার ওই বিরিয়ানির দোকানে ঢোকেন। ওই দোকান থেকে দু’প্লেট বিরিয়ানি অর্ডার করেন কৃষ্ণবাবু। ওই দোকানে বসেই বাচ্চা›রা সহ সবাই বিরিয়ানি খান। বিরিয়ানি অর্ধেক খাওয়ার পর একটি প্লেট থেকে সেদ্ধ টিকটিকি উদ্ধার হয়। যে কারণে আতঙ্কিত হয়ে দোকানে বিক্ষোভ দেখান কৃষ্ণ রুইদাস সহ অন্য সদস্যরা। তবে এই ঘটনায় এলাকার খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অভিযোগকারী কৃষ্ণ রুইদাস বলেন, আমার স্ত্রী, ছোটো মেয়ে সহ পরিবারের অন্যরাও ওই বিরিয়ানি খেয়েছেন। খাওয়ার মাঝেই বিরিয়ানির একটি প্লেটের মধ্যে সেদ্ধ টিকটিকি দেখতে পাই! এরপরই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমার ছোটো মেয়েকে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করাই। চিকিৎসকরা মেয়েকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ওই বিরিয়ানি দোকানের কর্মী মোহাম্মদ ইমরানের দাবি, এটা খাতড়ার অন্যতম পরিচিত বিরিয়ানির দোকান। আমরা সবসময় খাবার ঢেকে রাখি। সন্ধ্যা থেকে এক হাঁড়ি বিরিয়ানি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ওই একই হাঁড়ি থেকেই এই দু’প্লেট বিরিয়ানি দেওয়া হয়েছিল। টিকটিকি কীভাবে সেখানে এল বুঝতে পারছি না।