Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পলিক্লিনিকে কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার: রহস্য লুকিয়ে মোবাইলে, তদন্তে ফরেন্সিকের সাহায্য নিচ্ছে পুলিস

পলিক্লিনিকের ভিতর কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের নেপথ্যে ‘রহস্য’ লুকিয়ে মৃতের মোবাইলে! এমনটাই মনে করছে পুলিস। যদিও সোমবার রাত পর্যন্ত ওই মোবাইল পুলিস বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি।

পলিক্লিনিকে কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার: রহস্য লুকিয়ে মোবাইলে, তদন্তে ফরেন্সিকের সাহায্য নিচ্ছে পুলিস
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পলিক্লিনিকের ভিতর কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের নেপথ্যে ‘রহস্য’ লুকিয়ে মৃতের মোবাইলে! এমনটাই মনে করছে পুলিস। যদিও সোমবার রাত পর্যন্ত ওই মোবাইল পুলিস বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি। মোবাইলটি মৃতের পরিজনদের কাছেই রয়েছে। এদিকে, ঘটনার তদন্তে ফরেন্সিকের সাহায্য চাওয়া হয়েছে পুলিসের তরফে। পলিক্লিনিকের মালিক, পেশায় চিকিৎসক সপরিবারে এখনও ‘বেপাত্তা’। ঘটনার পর থেকেই পলিক্লিনিকটি সিল করে দিয়েছে পুলিস। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে সেটি খোলা হবে বলে পুলিস সূত্রে খবর। 

Advertisement

জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, ঘটনার তদন্তে মৃতের মোবাইল ফোনটি অত্যন্ত জরুরি। ওই ফোনে এমন কিছু সূত্র মিলতে পারে, যা সাহায্য করতে পারে তদন্তে। তবে পরিবার এখনও ফোনটি আমাদের হাতে দেয়নি। তিনি বলেন, তদন্তে ফরেন্সিকের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে সিল করে রাখা ওই পলিক্লিনিক খোলা হবে। খতিয়ে দেখা হবে সিসি ক্যামেরার শেষমুহূর্তের ফুটেজ।
পলিক্লিনিকের মালিক ও তাঁর স্ত্রী মিলে ছেলের উপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন মৃত রাহুল ঝা’র বাবা। কিন্তু কেন ওই যুবকের উপর মানসিক নির্যাতন চালানো হতো, তা উল্লেখ করেননি তিনি। অভিযোগপত্রে শুধু লিখেছেন, গোটা ঘটনার পিছনে অন্তর্নিহিত কোনও রহস্য রয়েছে। যা পুলিস তদন্ত করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মৃতের পরিবারের দাবি, পলিক্লিনিক চালুর পর থেকেই রাহুল সেখানকার কর্মী। শুধু কর্মী নয়, ওই পলিক্লিনিকের মালিকের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর ‘ভালো’ সম্পর্ক ছিল। মালিকের বাড়িতেও অবাধ যাতায়াত ছিল তাঁর। ফলে এতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কীভাবে আচমকা তিক্ততায় বদলে গেল, তা নিয়েই রহস্য দানা বেঁধেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, মানসিক নির্যাতন তো চলছিল, সেই সঙ্গে কিছুদিন ধরে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল রাহুলকে। সেইসঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিসের অবশ্য ধারণা, ওই যুবকের আত্মহত্যার পিছনে এমন কিছু কারণ রয়েছে, যার প্রমাণ মৃতের মোবাইলে পাওয়া যাবে। ওই মোবাইলের কললিস্ট কিংবা মেসেজ ঘেঁটে এমন কিছু সূত্র মিলতে পারে, যা মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে তদন্তে। কোতোয়ালি থানার আইসি বলেন, ঘটনার পরই আমরা পরিবারের কাছে মৃতের মোবাইল চাই। কিন্তু সেসময় সেটি দিতে অস্বীকার করে তারা। মোবাইলটি হাতে পেলে তদন্তে সুবিধা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ