সংবাদদাতা, দিনহাটা: বামনহাট-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পাথরশন গ্রামে বৃহস্পতিবার এক যুবতীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় গ্রামে। পুলিস জানিয়েছে মৃতার নাম সুস্মিতা বর্মন (২০)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, এদিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুস্মিতা বর্মনের বাবা ও দাদা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকতেন সুস্মিতা। চারবছর ধরে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল পাশের চৌধুরীহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের জায়গীর বালাবাড়ির যুবক গৌতম বর্মনের সঙ্গে। গৌতম বলেন, তাঁদের সম্পর্কের কথা দুই পরিবারই জানত। এমনকী বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল। সম্প্রতি সুস্মিতার ঠাকুমার মৃত্যু হওয়ায় বিয়ে পিছিয়ে যায়। এদিন সকালে সুস্মিতা আমাকে একাধিকবার ফোন করেছিল। কিন্তু কাজে ব্যস্ত থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারিনি। পরে ওকে ফোন করি। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি।
গৌতম বলেন, আমি উদ্বিগ্ন হয়ে সোজা চলে যাই সুস্মিতার বাড়িতে। প্রথমে কাউকে না পেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। পরে ওর মায়ের সঙ্গে ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখি, সুস্মিতা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে নীচে নামিয়ে বামনহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিস হাসপাতালে পৌঁছয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় মর্গে। পুলিস জানিয়েছে, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে, গ্রামের মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পাথরশন গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।