Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সদাইপুরে ধানখেত থেকে বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার, গয়না হাতাতে খুনের অভিযোগ

সদাইপুর থানার সাহাপুরের চণ্ডীতলায় এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।

সদাইপুরে ধানখেত থেকে বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার, গয়না হাতাতে খুনের অভিযোগ
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সদাইপুর থানার সাহাপুরের চণ্ডীতলায় এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিন সকালে গ্রামের ধানখেতে কুটুরি দাস(৭০) নামে ওই বৃদ্ধার মৃতদেহ নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। মৃতের পরনের শাড়ি তাঁর গলায় জড়ানো ছিল। বৃদ্ধার পরিবার ও গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, তাঁকে খুন করা হয়েছে। বৃদ্ধার গলায় সোনার হার, হাতে সোনার বালা ছিল। সেগুলিও ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ।  বাসিন্দাদের দাবি, বৃদ্ধার গয়না ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। মৃত্যুর তদন্তে নেমেছে সদাইপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামী-সন্তানহীন ওই বৃদ্ধা বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ২০০মিটার দূরে দাদা পূর্ণচন্দ্র দাসের বাড়ি। ধানখেতের পাশ দিয়েই দাদার বাড়ি যেতে হয়। পরিবারের দাবি, বৃদ্ধার সিরিয়াল দেখার ঝোঁক ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যাতেই ওই রাস্তা ধরে বৃদ্ধা তাঁর দাদার বাড়িতে যেতেন। মঙ্গলবারও দুর্যোগ মাথায় নিয়েই দাদার বাড়ি গিয়েছিলেন। ফেরার সময়েই ওই ঘটনা ঘটে বলে অনুমান পুলিশের। বৃদ্ধার দাদার ছেলে হরিচরণ দাস বলেন, পিসি প্রতিদিনই সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ আমাদের বাড়িতে টিভি দেখতে আসত। মঙ্গলবারও এসেছিল। তারপর রাত ৯টা বাজলে বাড়ি চলে যায়। আজ সকালে ধানজমি থেকে পিসির মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর পাই। দেহ দেখলেই বোঝা যায় এটা স্পষ্ট খুন। আমরা ঘটনার প্রকৃত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। 
বৃদ্ধার দূরসম্পর্কের আত্মীয় উত্তম দাস বলেন, এদিন সকালে উবু হয়ে ধান জমিতে পড়ে থাকতে দেখি। কাছে গিয়ে চিনতে পারি। তারপর বৃদ্ধার দাদার পরিবারের সদস্যদের খবর দিই। দেখি, মুখে কাপড় ভরা আছে। পরনের শাড়ি গলায় প্যাঁচানো ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ ছিল বলেও দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। এদিন মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে প্রাথমিকভাবে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও খুনিকে খুঁজে বের করার দাবি নিয়ে মৃতদেহ ঘিরে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বাসিন্দাদের দাবি, বৃদ্ধার প্রায় বিঘাখানেক জমি রয়েছে। সোনাদানাও রয়েছে। বৃদ্ধা একসময় সুদে টাকা খাটাতেন। টাকাপয়সাও নেহাত কম নেই। সম্পত্তি হাতাতেই বৃদ্ধাকে খুন করা হয়েছে। পারিবারিক শত্রুতাও থাকতে পারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সদাইপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জয়ন্ত দাস, সার্কেল ইন্সপেক্টর সুব্রত ইন্দ্র, ডিএসপি(শৃঙ্খলা ও প্রশিক্ষণ) কুণাল মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। তাঁরা গ্রামবাসীদের তদন্তের আশ্বাস দিলে তবেই অবরোধ ওঠে। পুলিশের পদস্থ এক আধিকারিক বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ