নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ডাওহিল পাহাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এক ছাত্রের। নাম সপ্তনীল চট্টোপাধ্যায় (২৩)। হাওড়ার বাগনানের সামতায় তাঁর বাড়ি। সোমবার ভোরে একটি হোম স্টে চত্বর থেকে যুবকের দেহ উদ্ধার করে পুলিস। হোম স্টের ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়েছেন বলেই সন্দেহ! তবে কীভাবে পড়লেন তিনি? তা নিয়ে ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। দিনভর মৃতের সঙ্গীদের জেরা করেও পুলিস জানতে পারেনি, কীভাবে পড়লেন যুবক।
দার্জিলিং জেলার আকর্ষণীয় স্থানগুলির মধ্যে ডাওহিল একটি। এটি কার্শিয়াং শহর থেকে কিছুটা দূরে। এদিন ভোরে একটি হোম স্টের সামনে পড়েছিল সপ্তনীলের দেহ। ঘটনাস্থলে ছিল চাপ চাপ রক্তের দাগ। মৃতদেহ উদ্ধার করে কার্শিয়াং থানার পুলিস। মাথা সহ শরীরের একাধিক জায়গায় রয়েছে চোট, আঘাতের চিহ্ন। রবিবার রাতে ওই ছাত্রছাত্রীরা ব্যালকনিতে হইহুল্লোড় করছিলেন, গান ও গল্পে আসর মেতে উঠেছিলেন। তখনই ব্যালকনি থেকে পড়ে যান নাকি, কেউ তাকে ফেলে দিয়েছে সেই প্রশ্ন উঠছে।
কার্শিয়াংয়ের অতিরিক্ত পুলিস সুপার অভিষেক রায় বলেন, পাঁচজনের সঙ্গে ওই হোম স্টেতে এসেছিলেন সপ্তনীল। যারমধ্যে চারজনই ছাত্রী। দিনভর মৃতের বন্ধু-বান্ধবীদের জেরা এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও পুলিস ঘটনার কিনারা করতে পারেনি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। মৃত ছাত্রের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিয়ে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হবে। মৃতের বাবা ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় কার্শিয়াংয়ে পৌঁছেছেন।
সপ্তনীল কলকাতার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তৃতীয়বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। তাঁর বন্ধু-বান্ধবীরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা জলপাইগুড়ির ওই বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। দু’দিন সেখানে কাটানোর পর শনিবার বিকেলে সকলে ডাওহিলের ওই হোম স্টেতে যান। সোমবার তাঁদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তা হল না। এদিন ভোরেই সপ্তনীলের বাড়িতে ভিডিও কল করে তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানান বন্ধুরা।
ছেলের মৃত্যু সংবাদ বাড়িতে আসার পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন কেয়া চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সোমবার ভোরে নীলের রুমমেট আয়ুষ্মান ফোন করে আমাকে বলে, আন্টি ক্ষমা করে দাও। তুমি আঙ্কলকে নিয়ে বিমান ধরে এখনই চলে এস। আমি টাকা দেব। নীলের কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করলেও ও কিছু বলেনি। নীল যে বেড়াতে গিয়েছিল সেটা আমরা জানতাম না।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিসের একাংশের সন্দেহ, হোম স্টের ব্যালকনি থেকে পা পিছলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ছাত্রের। কারও কারও ধারণা, তাঁকে খুন করা হয়েছে।