সংবাদদাতা, ঘাটাল: দিল্লিতে ঘাটাল মহকুমার এক দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। রবিবার দুপুরে দিল্লির করোলবাগে সিলিং ফ্যানে একই দড়িতে দাসপুর থানার কাশীনাথপুরের এক দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়। ওই দম্পতির নাম দেবু ভৌমিক (৩৫) এবং মল্লিকা ভৌমিক (২৮)। কী কারণের জন্য মৃত্যু হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে করোলবাগের পুলিস ওই ঘটনাটিকে প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যাই বলে অনুমান করছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাশীনাথপুরে ওই মৃত্যুর খবর পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
দেবুবাবু পেশায় স্বর্ণশিল্পী। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই তিনি দিল্লিতে সোনার কাজে চলে যান। অল্প বয়সেই প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। তাঁর সাত বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। দিল্লির করোলবাগে যে বিল্ডিংয়ে দেবুবাবুর কারখানা ছিল তার উপরতলাতেই তাঁরা সপরিবারে থাকতেন। মেয়ে দিল্লিরই এক স্কুলে পড়াশোনা করত। দেবুবাবুর দিল্লির কয়েকজন বন্ধু জানান, বেশ কয়েক মাস হল দেবুবাবুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর প্রায়ই অশান্তি হতো। অনেক সময়ে তাঁদের ঘরের দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করতে শোনা গিয়েছে। তাঁরই এক সম্পর্কিত ভাগ্নে দেবুবাবুর দোকানে কারিগরের কাজ করেন। অন্যান্য দিনের মতো এদিন সকালে কারিগরদের জন্য চা আনতে মামিমার কাছে গিয়েছিলেন। গিয়ে দেখেন, ফ্ল্যাটের দরজাটি খোলা। শোওয়ার ঘরে সিলিং ফ্যানের হুকে একই দড়িতে স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহ ঝুলছে। খবর দেওয়া হলে পুলিস গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য, দিন চারেক আগে ওই দম্পতি তাঁদের এক মাত্র সন্তানকে দাসপুরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনা থেকেই অনুমান করা হচ্ছে আত্মহত্যার ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। তবে আত্মহত্যা করার কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। কয়েক জন পরিচিতের দাবি, সম্প্রতি ওই স্বর্ণশিল্পীর বাজারে বহু ঋণ হয়ে গিয়েছিল। তার কারণেও তাঁরা একই সঙ্গে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। দম্পতির এক সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনা ঘাটাল মহকুমায় প্রায়ই হচ্ছে। ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল রাতে ঘাটাল শহরের আলামগঞ্জের একটি ফ্ল্যাট থেকে দেবাশিস ঘোষ(৬৫) ও তাঁর স্ত্রী জলি ঘোষের(৫৮) দেহ উদ্ধার হয়। দেবাশিসবাবুর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী জলিদেবীকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেবাশিসবাবুর ঝুলন্ত দেহের নীচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট সকালে একই দড়িতে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় দাসপুর থানার রবিদাসপুরে। মৃত স্বামীর নাম প্রশান্ত ভুঁইয়া (৪৫) এবং স্ত্রীর নাম চন্দনা ভুঁইয়া (৩৮)। সেটিও আত্মহত্যা বলেই পুলিস জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর দাসপুর থানার রানিচকে শেখর মণ্ডল (৬৫) এবং শিপ্রা মণ্ডলের (৬১) দেহ উদ্ধার হয়। পুলিস এটিকে বিষপান করে আত্মহত্যা বলে অনুমান করেছিল।
২০২২ সালের ১৪ মার্চ দাসপুর থানার রামচন্দ্রপুরে মোহন মণ্ডল (৫২) ও তাঁর স্ত্রী রীতা মণ্ডলের (৪২) নিথর দেহ বাড়ির মধ্য থেকেই পাওয়া যায়। পুলিসও ওই ঘটনাটিকে আত্মহত্যাই বলে জানিয়েছে।