Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোঘাটে একই বাড়ির ৩ সদস্যের ঝুলন্ত দেহ

একই পরিবারের তিন সদস্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোঘাটে

গোঘাটে একই বাড়ির  ৩ সদস্যের ঝুলন্ত দেহ
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোঘাট: একই পরিবারের তিন সদস্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোঘাটে। বৃহস্পতিবার সাত সকালে দেহগুলি উদ্ধার হয় গোঘাট থানার বেঙ্গাই পঞ্চায়েতের উপ শালঝাড় গ্রামে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম অনিমা নন্দী (৭১), কাশীনাথ নন্দী (৫৪) ও মমতা নন্দী (৪৭)। অনিমাদেবীর ছেলে কাশীনাথ। পুত্রবধূ মমতা। অন্যান্য দিনের মতো এদিন সকালে বাড়ির দরজা খুলে কেউ না বেরোনোয় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তারপরই স্থানীয় বাসিন্দারা তিনটি ঝুলন্ত দেহ পৃথক দু’টি ঘরে দেখতে পান। গোঘাট থানার পুলিস এসে দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আরামবাগ মেডিক্যালের মর্গে পাঠায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, মাস আটেক আগে কাশীনাথবাবুর ছেলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। তারপর থেকেই পুত্রশোকে মুষড়ে পড়েছিল পরিবারটি। সেই শোক সহ্য করতে না পেরে বুধবার রাতে মানসিক অবসাদে তাঁরাও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীনাথবাবুর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে মারা গিয়েছেন। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বছর খানেক আগে। কাশীনাথবাবু পেশায় চাষি ছিলেন। আচমকা তাঁদের এমন পরিণতিতে হতবাক হয়ে গিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। প্রতিবেশী বধূ শিল্পা মিদ্যে বলেন, অন্যান্য দিনের মতো এদিন সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে দেখি ওদের দরজা বন্ধ। ডাকলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। গ্রামের অন্যান্যদের জানালে পাঁচিলে মই দিয়ে উঠতেই ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁদের দেখা যায়। তারপরই থানায় খবর দেওয়া হয়। গত বুধবারও আমার সঙ্গে কথা হল। খোঁজ নিয়েছিল পরিবারের। হঠাৎ সকালে এমন দেখতে হবে ভাবতে পারছি না। পড়শি অসিত নেমো বলেন, ছেলে চলে যাওয়ার পর কাশীনাথবাবু ও তাঁর পরিবার একেবারে ভেঙে পড়েছিল। আমরা পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। চাষের কাজে সাহায্য করতাম। কিন্তু আচমকাই সব পাল্টে গেল পরিস্থিতি। গ্রামের আর এক বাসিন্দা শান্তি মণ্ডল বলেন, কাশীনাথ চাষবাস নিয়েই থাকতেন। তাই চাষ নিয়েই আমাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে কথা হত। মাস আটেক আগে ওঁর ছেলে আত্মঘাতী হয়। সেই নিয়ে শোকাতুর ছিল। কিন্তু এমন হবে কল্পনা করিনি।
কাশীনাথবাবুর শ্যালক কোতুলপুরের বাসিন্দা রঘুনাথ নন্দী বলেন, দিন দুয়েক আগে শিবের গাজনে আমাদের বাড়ি যাওয়া নিয়ে শেষ কথা হয়েছিল। কিন্তু ওরা যায়নি। তারমধ্যেই এমন হয়ে গেল।  স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বুধবার কাশীনাথ অন্যান্য দিনের মতো খাটুল বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানেও অনেকের তাঁর সঙ্গে দেখা, কথা হয়। এলাকায় তাঁদের সুনামও রয়েছে। তাই এদিন খবর পাওয়ার পর বাড়ির সামনে ভিড় উপচে পড়ে। বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এক তলা পাকা বাড়ির ঘর তালা বন্ধ। মূল দরজার কাছেই রান্নাঘর। সেখানে একটি কড়াই পড়েছিল। লাগোয়া সামনা সামনি দু’টি ঘরে তিনজনের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন বাসিন্দারা। 
 গোঘাটে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিজনরা। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ