Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

বোধিবৃক্ষের পাতা

কিছু কিছু জায়গার প্রেমে পড়ে যায় মানুষ। বার বার সে জায়গাতে ছুটে যেতে ইচ্ছা হয়। আমার ক্ষেত্রেও বুদ্ধগয়া-নালন্দার ব্যাপারটা ওরকমই বলা যেতে পারে।

বোধিবৃক্ষের পাতা
  • ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কী সুন্দর মায়াময় এই বিশাল পৃথিবী! সুনীল সাগর থেকে উত্তুঙ্গ পর্বতমালা, ঊষর মরুভূমি থেকে গহীন অরণ্য, গগনচুম্বী অট্টালিকার নগরী থেকে প্রাচীন জনপদ—সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে অপার সৌন্দর্য। তারই সন্ধানে ছুটে বেড়ায় ভ্রমণ পিয়াসী মন। তাই তো পাখির ডানায় রৌদ্রের গন্ধ মেখে উড়ে চলা।  দলবদ্ধভাবে কিংবা একা।

Advertisement

হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: কিছু কিছু জায়গার প্রেমে পড়ে যায় মানুষ। বার বার সে জায়গাতে ছুটে যেতে ইচ্ছা হয়। আমার ক্ষেত্রেও বুদ্ধগয়া-নালন্দার ব্যাপারটা ওরকমই বলা যেতে পারে। শীতকালে প্রায় এক মাস অতিবাহিত করেছিলাম বুদ্ধগয়াতে। ঘুরে বেড়াতাম আশপাশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে। ওই সময় থেকে এই জায়গার প্রতি আমার কেমন একটা অদ্ভুত ভালোলাগা-ভালোবাসার টান তৈরি হয়েছিল। যার থেকে আজও মুক্ত হতে পারিনি।
সকালবেলা মঠ থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গিয়েছিলাম মহাবোধি মন্দিরে। গর্ভগৃহে বুদ্ধমূর্তি দর্শন করে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে বসেছিলাম মন্দিরের পশ্চাৎ ভাগে বোধিবৃক্ষর সামনের চাতালে। বোধিবৃক্ষর চারপাশটা কারুকার্য মণ্ডিত পাথরের উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। তবে তার ডালপালা বাইরের চাতালের ওপর চাঁদোয়ার মতো আবরণ বিস্তার করে থাকে। যে চাতালে বসে ধর্মগ্রন্থ নীরবে পাঠ করে চলেন দেশ-বিদেশ থেকে আগত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বা বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। কেউ আবার পদ্মাসনে বসে বুকের কাছে হাত জোড় করে ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকেন। যতবারই এ জায়গাতে এসে বসি ততবারই এক আশ্চর্য অনুভূতি হয়। এই সেই স্থান যে স্থানে বসে একদিন মহাজ্ঞান লাভ করেছিলেন তথাগত। শাক্য রাজপুত্র থেকে তিনি রূপান্তরিত হয়েছিলেন বুদ্ধে। মন্দির আর বোধিবৃক্ষকে কেন্দ্র করে একটা চক্রাকার পথ আছে। যার নাম চক্রমন স্থল। আড়াই হাজার বছর আগে নৈরঞ্জনা নদীর তীরে এ স্থান সে সময় অবশ্য জঙ্গণাকীর্ণ ছিল। বোধিবৃক্ষকে ঘিরে ছিল পায়ে চলা পথ। পরবর্তীকালে সম্রাট অশোক এ স্থানে মন্দির নির্মাণ করেন। পাল যুগে এর সংস্কার সাধিত হয়। মহেন্দ্র ও সংঘমিত্রা একদিন বুদ্ধ ধর্মের প্রতীক স্বরূপ এই গাছের চারা নিয়েই পাড়ি দিয়েছিলেন সিংহলে-শ্যামদেশে। ঘটনাচক্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় সবক’টি প্রধান বৌদ্ধ মন্দির বা তীর্থক্ষেত্র দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আর সে সব মন্দিরে আমি বোধিবৃক্ষ দেখেছি। বোধিবৃক্ষ বা যে অশ্বত্থবৃক্ষটি বর্তমানে ছায়া দেয়, তা যে বৃক্ষের নীচে সিদ্ধার্থ বুদ্ধত্ব লাভ করেছিলেন, তার কততম প্রজন্ম আমার জানা নেই। তবে বর্তমান বৃক্ষটি সারা পৃথিবীর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতম বৃক্ষ। এ গাছের পাতা ছেড়া কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু খসে পড়া পাতা নিতে কোনও বাধা নেই। খেয়াল করে দেখেছি, সন্ন্যাসী-ভিক্ষুরা বহু সময় ধরে গাছের মাথার ডালপালার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, যদি কোনও পাতা খসে পড়ে তা সংগ্রহ করবেন বলে।
গ্রীষ্মকাল। এ সময়টা এখানে ঠিক ট্যুরিস্ট সিজন নয়। শীতকালে লম্বা লাইন পড়ে যায় মহাবোধি মন্দিরে প্রবেশ করার জন্য। তবে এ স্থান তীর্থক্ষেত্র বলে বর্ষা ঋতু ছাড়া অন্য সব ঋতুতেই পুণ্যার্থীদের আসা যাওয়া থাকে। ঘণ্টাখানেক বোধিবৃক্ষ তলে বসে থাকার পর দেখলাম সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছে সাদা পোশাক পরা এক বৌদ্ধ শ্রমণদের দল। সিংহল থেকে এসেছেন তাঁরা। সাধারণত আমরা এখানকার বৌদ্ধ ভিক্ষুদের গেরুয়া বা কালচে লাল পোশাক পরতে দেখি। কিন্তু দেশ ভেদে তাদের পোশাকের রং ভিন্ন হয়। কমলা-সাদা, খয়েরি, হলুদ এমনকী কালো পোশাকও তাদের পরতে দেখেছি। বোধিবৃক্ষর নীচে প্রার্থনা করতে এসেছেন সেই সিংহলি ভিক্ষুরা। চাতালের মতো জায়গাটা খুব বেশি প্রশস্ত নয়। আমি দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় বসে আছি, আরও কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষুও বসে আছেন সে স্থানে। আমি উঠে গেলে সে স্থানে অন্য একজন বসে প্রার্থনা করতে পারবেন। তাই সে স্থান থেকে উঠে পড়লাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে এলাম মন্দিরের বাইরে। সামনের চত্বরে তখন মন্দিরে প্রবেশের জন্য ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। মন্দিরে বুদ্ধমূর্তির গায়ে ভক্তরা যে চিবের দান করেন সেই সোনালি চিবরের দোকানিরা বসে গিয়েছে তাদের পসরা নিয়ে। পদ্ম ও অন্য ফুল বিক্রেতার দলও ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরও নানা ধরনের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা আছে। আমাকে প্রাতরাশ সারতে হবে। কালচক্র ময়দানের কাছে একটা দোকানে ভালো সব্জি-পুরি-চা বিক্রি হয়। বুদ্ধগয়া ছোট শহর। ময়দানের অবস্থান শহরের বাইরের অংশে। মহাবোধি মন্দির থেকে দশ-পনেরো মিনিটের হাঁটা পথ। প্রাতরাশ সাঙ্গ হল।
তারপর যখন আবার ফেরার পথ ধরব ভাবছি ঠিক তখনই দেখলাম যাত্রী সমেত একটা বড় অটোরিকশ ‘রাজগীর-রাজগীর’ বলে হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে। আমার কোথাও যাওয়ার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। অটো রিকশর হাঁক শুনে মনে হল একবার ঘুরে আসি রাজগীরের দিকে। তারপর সম্ভব হলে আরও একবার দেখে আসব প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি স্মারক। বুদ্ধগয়া থেকে রাজগীরের দূরত্ব পঁচাত্তর কিলোমিটারের মতো। প্রাইভেট গাড়িতে যেতে দেড় ঘণ্টা। অটোতে দু-ঘণ্টা আর রুটের বাসে যেতে ঘণ্টা তিনেক মতো সময় লাগে। নৈরঞ্জনা নদীর অপর পাড়ে চলে এলাম। একপাশে ফসলের খেত, দূরে দিকচক্রবালে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষয়িষ্ণু এক পর্বত। কেউ কেউ তাকে গৃধ্রকূট পর্বত নামে ডাকেন। ওই স্থানেই নাকি বুদ্ধ কিছু কালের জন্য তপস্যাও করেছিলেন। আবার কেউ কেউ রাজগীরের নিকটস্থ ক্ষয়িষ্ণু পর্বতকে বলেন গৃধ্রকূট পর্বত। এমনও হতে পারে যে দু-আড়াই হাজার বছর আগে গৃধ্রকূট পর্বতের বিস্তার রাজগীর থেকে বুদ্ধগয়ার প্রান্ত সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সুজাতার গ্রাম ছিল নদীর ও পাড়েই। আর পথের অন্যপাশে নৈরঞ্জনা নদীর বিস্তৃর্ণ জলহীন বালুকাময় খাত। তবে হাত দিয়ে বালু সরালেই নীচ থেকে জল বেরিয়ে আসে। তাই এ নদীর অপর নাম ফল্গু। নদীর এপার থেকে ওপারে দেখা যায় মহাবোধি মন্দিরের শীর্ষদেশ। ইতিহাসবেত্তাদের রচনা, বিভিন্ন বৌদ্ধ কাহিনি অনুসারে সিদ্ধার্থ যখন এসেছিলেন তখন নদীর ওপাড়ে অর্থাৎ যে স্থানে বর্তমান বুদ্ধগয়া অবস্থান, সে স্থানে কোনও জলবসতি ছিল না। সিদ্ধার্থ নির্জন অরণ্যভূমিকেই বেছে নিয়েছিলেন সাধনার জন্য। গোপবধূ সুজাতা নদী পার হয়ে সিদ্ধার্থের সাক্ষাৎ পান এবং তাঁকে পরমান্ন নিবেদন করেন।
রাজগীরে যখন পৌঁছলাম তখন বেলা এগারোটা। দোকানপাঠ, নানা ধরনের গাড়ি, টাঙ্গা, লোকজনের ভিড়ে জমজমাট জায়গা। ষোড়শ মহাজনপদের সব চাইতে শক্তিধর মগধের রাজধানী ছিল এই রাজগীর বা রাজগৃহ নামক স্থান। প্রাচীন নগরীর ধ্বংস চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে বা উৎখনন করা হয়েছে এখানে। বিম্বিসারের প্রাসাদের ভিত, তাঁর কারাগার, কেউ কেউ আবার যাকে তাঁর রত্নাগারও বলে থাকেন। আর রয়েছে রত্নগিরি পাহাড়ের মাথায় জাপান সরকারের আনুকূল্যে নির্মিত ‘বিশ্ব শান্তি স্তূপ’। সম্রাট বিম্বিসার, সম্রাট অজাতশত্রু ইতিহাস প্রসিদ্ধ নাম। কত ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ছিল এই প্রাচীন জনপদ। সবচেয়ে বড় কথা এই জনপদ মহাজ্ঞানী বুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে। তাঁর স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে বেণুবন।
টিকিট কেটে প্রবেশ করলাম বেণুবনে। ‘বেণুবন’ অর্থাৎ ‘বাঁশের বন।’ আজও এখানে বেশকিছু বাঁশ ঝাড় আছে। আর আছে বিশাল বিশাল সব ছায়া ঘেরা গাছ আর একটি প্রাচীন জলাশয়। এই বাগানের ঐতিহাসিক স্থানের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কয়েকটি স্থানে ফুলের গাছ দিয়েও সাজানো হয়েছে।
এই স্থানে সম্রাট বিম্বিসারের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয় ভগবান বুদ্ধের। বিম্বিসার এই বাঁশের বাগানটি উপহার দেন গৌতম বুদ্ধকে। এস্থানে তিনি একটি মঠ নির্মাণ করান ও একটি পুষ্করিণী খনন করান। বর্ষা ঋতুর তিন মাস বুদ্ধ বা তার শিষ্যরা ভিক্ষাবৃত্তি ও ধম্ম প্রচারের জন্য পরিক্রমা থেকে বিরত থাকতেন। বুদ্ধ তাঁর জীবনের বেশ কয়েকটি বর্ষা এই বেণুবনে মঠ বা সংঘবাসে অতিবাহিত করেন। তবে বিম্বিসার নির্মিত সেই সংঘবাসের কোনও চিহ্ন আর এখন বেণুবনে অবশিষ্ট নেই। যা আজও টিকে আছে তা হল বেণুবনের শান্ত সমাহিত পরিবেশ, মরমর শব্দ কিংবা পাতা ঝরার শব্দ। সম্রাট বিম্বিসার, ভগবান বুদ্ধের সময়কাল যেন আজও থমকে আছে এখানে। একটা চক্রাকার পথ আছে বেণুবনের মধ্যে দিয়ে। সে পথ দিয়েই হাঁটতে শুরু করলাম। পথের পাশের প্রাচীন গাছগুলি সুশীতল ছায়া আর আচ্ছাদন রচনা করেছে মাথার ওপর। কোথাও কোথাও ডালপালার ফাঁক দিয়ে সূর্য রশ্মি এসে পড়েছে পথের উপর। আড়াই হাজার বছর আগে হয়তো এ পথ ধরেই বেণুবন প্রদক্ষিণ করতেন একাকী বা শিষ্য পরিবৃত তথাগত। হাঁটতে হাঁটতে তিনি ধর্মোপদেশ দিতেন তাঁর শিষ্যদের। হয়তো বা তাঁর পদধূলি আজও মিশে আছে বেণুবনের মাটিতেই। এই বনের মাটিতেই একদিন পদচিহ্ন আঁকা হয়েছিল সম্রাট বিম্বিসার, সম্রাট অজাতশত্রুর। এমনকী সম্রাট অশোকও পরবর্তীকালে বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এ স্থান পরিদর্শনে এসেছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে একসময় উপস্থিত হলাম যেখানে বাঁশের বন আছে সেখানে। যদিও সে বন আজ ক্ষুদ্রাকৃতি রূপ ধারণ করেছে। হয়তো এদের পূর্বপুরুষরা সত্যিই একদিন ভগবান বুদ্ধের দর্শন লাভ করেছিল। বাতাস বইছে বাঁশবনের মধ্যে। পাতার মৃদু খসখস শব্দ যেন ফিসফিস করে বলে চলেছে হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস, মহাজ্ঞানী এক মানুষের কথা।
বাঁশ ঝাড়ের অনতিদূরেই বিম্বিসারের খনন করা সেই দিঘি বা পুষ্করিণী। বুদ্ধ যার জলে অবগাহন করে তারপর ধ্যানে বসতেন। তবে মহাকালের নিয়মে সেই বিরাট দিঘি একটা ছোট জলাশয় বা পুকুরে পরিণত হয়েছে। গিয়ে বসলাম তার পাড়ে একটা গাছের ছায়ায়। মধ্যাহ্নের সূর্যালোকে চিক ঩চিক করছে জলাশয়।
দুপুরের অনেকটা সময়ই কাটিয়ে দিলাম বেণুবনে। এরপর রওনা হলাম নালন্দার উদ্দেশে। মাত্র পনেরো মিনিটের যাত্রা পথ। ইতিহাস প্রসিদ্ধ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ চিহ্ন দর্শন করার জন্য অবশ্য সব সময় কমবেশি পর্যটকদের ভিড় থাকে। ইউনেস্কোর হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত এই স্থান। এই মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সম্রাট কুমার গুপ্ত আনুমানিক পঞ্চম শতাব্দীতে। প্রায় সাতাশো বছরের ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ভারতবর্ষেরই নয়, সারা পৃথিবীর জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। তিনটি বহুতল বিশিষ্ট গ্রন্থাগার ছিল এ স্থানে। তারপর খিলজি বাহিনীর নিষ্ঠুর আক্রমণে ধ্বংস হয় এই মহাবিহার। শুধুমাত্র হিউয়েন-সাঙের মতো পরিব্রাজকদের অনুলিখিত কিছু পুঁথি রক্ষা পায় তাঁরা সেগুলি নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার কারণে।
টিকিট কাউন্টার থেকে সোজা রাস্তা চলে গিয়েছে মূল সৌধের প্রবেশ মুখে। গাছে ছাওয়া সুন্দর সাজানো পথ। পথের পাশে ডিসপ্লে বোর্ডে রয়েছে কীভাবে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোগুলি উৎখনন করা হয়েছিল সে সব ইতিহাস। সে পথ দিয়েই প্রবেশ করলাম ইতিহাসের চত্বরে। একসময় বহু তোরণ বিশিষ্ট ছিল নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র হিসাবে সে সব তোরণ অতিক্রম করতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতামান অতিক্রম করতে হতো। এখন আর সে সব তোরণের অস্তিত্ব নেই। প্রাচীন লাল ইটের একটা টানেল অতিক্রম করে ভিতরে প্রবেশ করলেই প্রথমেই চোখে পড়ে ইটের তৈরি সোপান বিশিষ্ট সেই প্রাচীন কাঠামোটি। যার ছবি দেখা যায় ইতিহাস বইয়ের পাতায়। তার বিপরীতে বিস্তৃত ঘাসে ছাওয়া অঞ্চলে কোথাও কোথাও জেগে আছে ভিতের অংশ। হয়তো বা ওই ভিতের ওপর যে কক্ষ ছিল, যেখানেই বসে একদিন ছাত্রদের পাঠ দিতেন পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, আচার্য শীল ভদ্র, শীল রক্ষিতের মতো মহাপণ্ডিতেরা। ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন তো ছিলই তার পাশাপাশি সাহিত্য, তর্কশাস্ত্র, শরীর বিদ্যা থেকে রসায়ন বিদ্যা এমনকী সে সময় আকাশ যান আবিষ্কৃত না হলেও উড্ডয়ন বিদ্যারও পাঠ দেওয়া হতো এখানে। বেলাশেষের আলো এসে পড়েছে প্রাচীন স্থাপত্যগুলোর ওপর। কেমন যেন মায়াময় আলো। সেই সুদূর অতীতে সন্ধ্যা নামলেই জ্বলে উঠত মৃৎ প্রদীপের আলো। জ্ঞানের আলো। যা এ স্থান থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা পৃথিবীতে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ