Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিরাপত্তার বালাই নেই, নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই রূপনারায়ণ পারাপার খানাকুলে

বর্ষাকালে ফুলে ফেঁপে ওঠে খানাকুলের রূপনারায়ণ নদের জল। নদের উপর পাকা সেতু না থাকায় সেই সময় নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।

নিরাপত্তার বালাই নেই, নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই রূপনারায়ণ পারাপার খানাকুলে
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আরামবাগ : বর্ষাকালে ফুলে ফেঁপে ওঠে খানাকুলের রূপনারায়ণ নদের জল। নদের উপর পাকা সেতু না থাকায় সেই সময় নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরফলে যে কোনও দিন নৌকাডুবি হওয়ার যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সেতু না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষজন। তাঁরা বলেন, সম্প্রতি খানাকুলের ঘোষপুরে নৌকাডুবির ঘটনা দেখেও শিক্ষা হয়নি ফেরিঘাটের বরাত পাওয়া ব্যক্তিদের। এখনও নৌকা যতক্ষন না পর্যন্ত পুরোপুরি ভর্তি হয়ে ওভারলোডিং হয়,ততক্ষন পর্যন্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। ফলে নৌকাটি নদী পারাপারের সময় বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকে। যখন তখন একটা বড়সড় বিপদ ঘটে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এ প্রসঙ্গে খানাকুল ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা মন্ডল বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা যাবে না। লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এটা ঘাট বরাত দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

Advertisement

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ, গোঘাট ও পুরশুড়ার তুলনায় খানাকুলে নদী ও খালের সংখ্যা বেশি। খানাকুলের বহু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নদীর উপর সেতু না থাকায় নদী পারাপারের জন্য নৌকা ব্যবহার করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। খানাকুলের  গড়েরঘাট ও বন্দর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে নৌকায় যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাগুলিতে সেতু তৈরির দাবি থাকলেও এখন পর্যন্ত তা তৈরি হয়নি। ফলে ওই এলাকার বাসিন্দাদের নৌকার মাধ্যমেই নদী পারাপার করতে হয়। কিন্তু ওই সব এলাকায় ফেরিঘাট গুলির পরিকাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। সেখানে  পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, লাইফ জ্যাকেট রাখা হয় না। নৌকায় কতজন যাত্রী উঠল তা গোনা হয় না। সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, ডুবুরিরও ব্যবস্থা নেই। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ফেরিঘাটগুলি থেকে নৌকায় চেপে বিপজ্জনকভাবে নদী পারাপার করতে হয়। এই বিষয়ে খানাকুলের জগৎপুর এলাকার বাসিন্দা রমেশ দোলুই বলেন, খানাকুলের গড়েরঘাট ও বন্দরের পাশ দিয়ে রূপনারায়ন নদী বয়ে গিয়েছে। ওই নদীতে প্রতিদিন জোয়ার ভাটা হয়। কোনও পাকা সেতু না থাকায় আমাদের নৌকা করেই নদী পারাপার করতে হয়। অন্যান্য সময়ে ভিড় কম থাকলেও স্কুল ও অফিস টাইমে যাত্রীদের চাপে নৌকা ওভারলোডিং হয়ে যায়। একই নৌকাতেই যাত্রীদের পাশাপাশি মালপত্র, সাইকেল, মোটরসাইকেল তোলা হয়। ফলে ওইসময় নৌকায় যাত্রীদের পা ফেলার জায়গা থাকে না। নৌকা ওভারলোভিং হয়ে পড়ায়  বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকে। যেকোনও সময় এক বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। ফলে প্রাণ হাতে নিয়ে নদী পারাপার করতে হয় আমাদের। লাইফ জ্যাকেটেরও ব্যবস্থা নেই। তাই আমরা নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তোলা বন্ধ করে ফেরিঘাট গুলির পরিকাঠামোর উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছি।    -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ