নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গরম পড়তেই বাঁকুড়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলি কার্যত শুনশান হয়ে গিয়েছে। জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র মুকুটমণিপুরও খাঁ খাঁ করছে। সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে মুকুটমণিপুরের শিকারার মাঝিরা কোনও কাজ পাচ্ছেন না। জলাধারের ঘাটে শিকারা বেঁধে মাঝিদের বেশিরভাগই ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজে চলে গিয়েছেন। কেউ কেউ দিনমজুরি করে সংসার চালাচ্ছেন। নদী ও জলাধারে ডিঙি নৌকো নিয়ে মাঝিদের একাংশ আবার মাছও ধরছে। খাতড়া মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের মহকুমার ব্লকগুলি খরা প্রবণ বলে চিহ্নিত। সেচের অভাবে চাষবাসও তেমন হয় না। বিশেষ করে মুকুটমণিপুর জলাধার লাগোয়া খাতড়া, হীড়বাঁধ, রানিবাঁধ ব্লকের পরিস্থিতি আরও খারাপ। ফলে আশপাশের জেলা ও ভিন রাজ্যে অনেকেই কাজে চলে যান। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকার কারণে মাঝে পরিযায়ী শ্রমিকের স্রোত বেশি ছিল। রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ দেওয়ার ফলে এখন বাড়িতে থেকেই শ্রমিকরা কাজ করছেন। শিকারা বারোমাস চলে না। শীতে পর্যটনের মরশুমেই তা চলে। ফলে মাঝিদের বছরের অন্যান্য ঋতুতে শ্রমিকের কাজই করতে হয়।
শিকার মাঝিদের মধ্যে রানিবাঁধের পরেশনাথ গ্রামের বাসিন্দা চক্রধর বাগদি, বনপুখুরিয়া গ্রামের কিঙ্কর মাহাত বলেন, পুজোর পর থেকেই মুকুটমণিপুরে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পিকনিক পার্টি ও পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। ওইসময় আমাদের ভালো রোজগার হয়। বছরের অন্যান্য সময় আমরা দিনমজুরি করে সংসার চালাই। আমাদের মধ্যে অনেকেই ভিনরাজ্যে কাজ করতে চলে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, আগে মুকুটমণিপুর ততটা উন্নত ছিল না। বর্তমান রাজ্য সরকার বাঁকুড়ার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলির মতো মুকুটমণিপুরকেও ঢেলে সাজিয়েছে। ফলে আগের তুলনায় এখন পর্যটকের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে এবার বিভিন্ন কারণে শুরুর দিকে মুকুটমণিপুরে পর্যটক কম এসেছিল। ফলে হোটেল শিল্পও ভরা মরশুমে মার খেয়েছিল। শিকারা চালকরাও হাপিত্যেশ করে বসে থাকতেন। পরে অবশ্য সেই ক্ষতি পুষিয়ে যায়। তবে চৈত্রের শুরু থেকেই এবার বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা চড়চড়িয়ে বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। ফলে জেলাবাসী দুপুরে বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। ভিন জেলার পর্যটকরাও গরমের কারণেই মুখ ফিরিয়েছেন বলে অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।