Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে ‘ব্লু রোড’, পঞ্চায়েত পিছু সংগ্রহের টার্গেট ৫৫০ কেজি

জেলাজুড়ে এবার ‘দুয়ারে প্লাস্টিকে’র রাস্তা। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্লু রোডস’। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের সামগ্রী(পলিথিন বাদে) পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে সেগুলিকে ব্যবহার করা হবে এই ধরনের রাস্তা তৈরির কাজে।

প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে ‘ব্লু রোড’, পঞ্চায়েত পিছু সংগ্রহের টার্গেট ৫৫০ কেজি
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, কল্যাণী: জেলাজুড়ে এবার ‘দুয়ারে প্লাস্টিকে’র রাস্তা। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্লু রোডস’। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের সামগ্রী(পলিথিন বাদে) পুনর্ব্যবহারযোগ্য করতে সেগুলিকে ব্যবহার করা হবে এই ধরনের রাস্তা তৈরির কাজে। আগামী একমাসের মধ্যে জেলার ১৮টি ব্লক থেকে সংগ্রহ করা হবে এক লক্ষ কিলোগ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য।

Advertisement

গোটা জেলায় বিভিন্নভাবে প্লাস্টিক দূষণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে। তাই এবার কিছু বিশেষ গোত্রীয় প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে উদ্যোগী জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজ নিজ এলাকা থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিটি ব্লককে নিজস্ব টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেমন, রানাঘাট-১ ব্লক সাত হাজার ৭০০কিলোগ্রাম, নবদ্বীপ এবং চকদহ চার হাজার ৫০০কিলোগ্রাম, হরিণঘাটা তিন হাজার ৯৬০কিলোগ্রাম, শান্তিপুর পাঁচ হাজার কিলোগ্রাম, করিমপুর, কৃষ্ণগঞ্জ এবং হাঁসখালি পাঁচ হাজার ৫০০কিলোগ্রাম, রানাঘাট-২ ছ’হাজার কিলোগ্রাম, নাকাশিপাড়া আট হাজার ৫০০কিলোগ্রাম, করিমপুর-২ সাত হাজার কিলোগ্রাম, তেহট্ট-১ ব্লক চার হাজার কিলোগ্রাম ইত্যাদি। প্রতিটি পঞ্চায়েতকে গড়ে ৫৫০কিলোগ্রাম করে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে হবে। মূলত জলের বোতলের ঢাকনা, প্লাস্টিকের খেলনা ও বালতির মতো শক্ত এবং প্রচণ্ডভাবে পরিবেশে দূষণ সৃষ্টিকারী প্লাস্টিকগুলিকেই রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে।
কীভাবে সম্পন্ন হবে প্রক্রিয়া? সূত্রের খবর, বিভিন্ন ব্লকে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে পৌঁছে যাবে সংগৃহীত প্লাস্টিক। এবার সেগুলিকে মেশিনের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে তার ছোট ছোট ‘চিপস’ তৈরি করা হবে। তারপর সেই চিপস দিয়ে তৈরি হবে জেলার একাধিক রাস্তা। এর ফলে এক ধাক্কায় যেমন অনেকটাই প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে ফেলা যাবে, তেমনি রাস্তা তৈরির অভিনব কাঁচামালটিরও পর্যাপ্ত পরিমাণে জোগান থাকবে। এই ধরনের প্লাস্টিক রাস্তাগুলিরই পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্লু রোড’। আগামী একমাস ধরে ব্লকভিত্তিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে সংগ্রহ করা হবে ১০০টন প্লাস্টিক। একমাসের মধ্যে কত প্লাস্টিক সংগ্রহ হল তা নিয়ে রিভিউ মিটিংও করবে জেলা প্রশাসন। ফলে, নির্দেশ আসার পর গড়িমসি করার কোনও জায়গাই থাকছে না। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা বিশেষভাবে জোর দিয়েছি। তাই বর্জ্য প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা আমাদের কাছে অন্যতম লক্ষ্য। ব্লকগুলিকে একমাস ধরে বিশেষ অভিযান চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত প্লাস্টিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে। এরকমই একগুচ্ছ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা দূষণমুক্ত নদীয়া জেলা গড়তে উদ্যোগী। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ