সংবাদদাতা, কান্দি: সাত সকালেই খবরটা চাউর হয়ে যায়। আর তারপরেই দৃষ্টিনন্দন প্লাস্টিকের রাস্তা দেখতে ভিড় জমাতে থাকেন বাসিন্দারা। সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। সোমবার এমনটাই দেখা গিয়েছে কান্দি পুর এলাকায়। পুরসভার চেয়ারম্যান জয়দেব ঘটক বলেন, আমরা সম্পূর্ণ গোপনীয়তা রেখেছিলাম রাস্তার তৈরির ব্যাপারটি নিয়ে। যাতে বাসিন্দাদের উপহার হিসেবে এটিকে সামনে আনতে পারি। মাত্র একরাতেই তৈরি এই রাস্তা সবাইকে চমকে দিয়েছে। তবে পুরসভার বাকি রাস্তাগুলি এভাবে করা হবে
কি না সেটা নির্ভর করবে রাস্তার গুনমানের উপর।
এদিন সকাল থেকেই কান্দি রাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনের গেট থেকে পুরসভা ভবন ও লক্ষীপ্যাঁচার মোড় থেকে রামেন্দ্রসুন্দর মোড় পর্যন্ত স্থানীয়রা ভিড় জমাতে শুরু করেন। কেউ মোবাইলে ছবি তুলে পোস্ট করছেন স্যোশাল মিডিয়ায় তো কেউ আবার পরিবার সহ গ্রুপ ছবি তুলে আত্মীয়দের পাঠাচ্ছেন। কারণ সোমবার সকালে তাঁরা আচমকাই নীল রংয়ের দৃষ্টিনন্দন ওই রাস্তার কথা জানতে পেরে এখানে এসেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০০ মিটার দূরত্বের দু’টি রাস্তা বাঁশের ব্যারিকেড করে বন্ধ করে দেওয়া হয় পুরসভার পক্ষ থেকে। এরপর রাত ন’টা নাগাদ শ্রমিকরা প্লাস্টিকের রাস্তা তৈরির কাজে নামেন। ভোররাত পর্যন্ত চলে কাজ। এরপর এদিন সকালে প্লাস্টিকের রাস্তা খুলে দেওয়া হয় সাধারণের জন্য। তারপরেই যেন ভিড় উপচে পড়ে।
কান্দি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সপ্তম দত্তর কথায়, এটা আমাদের কাছে ইংরেজি নববর্ষের আগাম উপহার। কেউ জানতেই পারল না অথচ সকাল হতেই স্বপ্ন দেখার মতো অবস্থা হয়েছে।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের যুবক শৈলেন সাহা বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে এমন রাস্তা তৈরির জন্য গর্ববোধ করে স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করলাম। রাস্তা দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল।
কান্দি পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর এক সংস্থার সহযোগিতায় এই রাস্তা হয়েছে। এখানে প্রায় সাড়ে ৩০০ কিলোগ্রাম প্লাস্টিকের বর্জ্য ব্যবহার হয়েছে। রাস্তাটি প্রায় ১৬ হাজার ৫০ বর্গ ফুটের।
কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, কলকাতায় আমার এক বন্ধু ওই সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার। ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই রাস্তা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। মূলত ওঁর সহযোগিতা ছাড়া এই রাস্তা তৈরি করা যেত না। এটি পরীক্ষামূলক রাস্তা। পরবর্তীতে এর গুণগত মান ও টেকসই দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে পুরসভা। -নিজস্ব চিত্র