সংবাদদাতা, কান্দি: দরকার ১২০০ থেকে ১৪০০ ফর্ম। কিন্তু দেওয়া হচ্ছিল মাত্র ৩০০ ফর্ম। যাতে বিএলওরদের ঝামেলায় পড়ার প্রভূত সম্ভাবনা ছিল। প্রতিবাদে সোমবার ভরতপুর ২ বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন সংশ্লিষ্ট বিএলওরা। পরে বিডিওর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১১টা বাজতেই ওই ব্লকের বিএলওরা বিডিও অফিসে আসেন ইনিউমারেশন ফর্ম সংগ্রহের জন্য। বিএলওদের অভিযোগ, তাঁদের কারও দরকার ১২০০, কারও ১৪০০ ফর্মের। কিন্তু বিডিও অফিস থেকে মাত্র ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ ফর্ম দেওয়া হচ্ছিল প্রত্যেককে। তাই বিএলওরা ফর্ম না নিয়ে অফিসার তাপসকুমার বিশ্বাসকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
স্থানীয় তালিবপুর উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহম্মদ আলি বলেন, যেখানে ১২০০ ফর্মের প্রয়োজন, সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০০ ফর্ম। এর ফলে যখন আমরা বাড়ি বাড়ি কাজ করতে যাব, তখন সকলকে ফর্ম দিতে পারব না। একটি বাড়ির পাঁচটি ফর্মের দরকার পড়লে দু’টির বেশি দিতে পারব না। এতে আমাদের হেনস্তা হতে হবে। অপর শিক্ষিকা কেয়া রায় বলেন, সমস্যার এখানেই শেষ নয়, বিএলও হিসেবে কাজ করার জন্য আমাদের অন ডিউটি দেখানো হচ্ছে না। ফলে একই সময়ে স্কুলেও হাজির থাকতে হবে, আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকার কাজও করতে হবে। এটা কীভাবে সম্ভব? স্কুল ছুটির পর কারও বাড়ি গিয়ে কাজ করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। এর কোন উত্তরও প্রশাসনের কাছে পাচ্ছি না। অপর শিক্ষিকা জুলেখা পারভিন বানু বলেন, শুধু ফর্ম বা অন ডিউটির ব্যাপার নয়, প্রশাসনের থেকে কোনও রকম সহযোগিতাও পাচ্ছি না। আধিকারিকদের বার বার ফোন করলেও তাঁরা কল রিসিভ করছেন না। অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে আমরা পড়ে গিয়েছি। সেই কারণেই এদিন সকলে মিলে বিক্ষোভ শুরু করেছি। এদিকে ঘণ্টাভর বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিডিওর নির্দেশে। অফিসের কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সময়ে ফর্মের সঙ্কট রয়েছে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই বাকি ফর্ম বিলি করা হবে। এরপর বিক্ষোভ উঠিয়ে নেওয়া হয়।
এবিষয়ে স্থানীয় ভরতপুর ২ বিডিও অনির্বাণ সেনগুপ্ত সংবাদ মাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি একটি ভিডিও কনফারেন্সে ব্যস্ত আছি।