সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নির্বাচন কমিশনের নিত্যনতুন ফরমানের জেরে এসআইআর শুনানি পর্বের মাঝেই গণইস্তফা দিলেন নলহাটি-২ ব্লকের বেশ কয়েকজন বিএলও। শুক্রবার লিখিতভাবে বিডিওর হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। এদিকে ভোটাররা বিএলও ছাড়া কাগজপত্র জমা দেবেন না বলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। স্বভাবতই চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। যদিও বিকেলে রামপুরহাট মহকুমা শাসক ও রামপুরহাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এসে ওই বিএলওদের সঙ্গে বৈঠকে বসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র অসন্তোষে ফেটে পড়লেন নলহাটি-২ ব্লকের বুথ লেভেল অফিসারদের একাংশ। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কাজের পদ্ধতির প্রতিবাদে তাঁরা ব্লক অফিসে বিক্ষোভ দেখান। পরে বিডিওর সঙ্গে দেখা করে তাঁরা গণইস্তফাপত্র তুলে দেন। অধিকাংশ বিএলওই স্কুলের শিক্ষক। তাঁরা জানান, একজন শিক্ষক হিসাবে তাঁদের প্রাথমিক কর্তব্য পড়ুয়াদের শিক্ষাদান করা। কিন্তু, বিএলওর কাজের অত্যাধিক চাপে তা ব্যাহত হচ্ছে। বিএলওদের কাজ করা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। কমিশন এআই দিয়ে মনিটারিং করায় প্রচুর সঠিক তথ্যকে ভুল বলে চিহ্নিত করে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নোটিস ইস্যু করেছে। মানুষজন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এই নোটিস বিলি করতে গেলে ভোটাররা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন। সমাজে আমরা শত্রু হিসাবে চিহ্নিত হচ্ছি। কমিশনের নির্দেশ আমরা মানতে পারব না। তাই ইস্তফা দিচ্ছি। ১৯ পার্টের বিএলও হাসানুজামান শেখ বলেন, কমিশন আমাকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নোটিস দিয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে নথি দেখিয়ে আমাকে প্রমাণ করতে হবে আমি বৈধ ভোটার। কমিশন যাচাই না করেই আমাকে বিএলওর দায়িত্ব দিয়েছে। তাহলে ভাবুন, আমি জনসাধারণকে কী উত্তর দেব। ৩১ পার্টের বিএলও মার্জিনা খাতুন বলেন, ২০০৪ সাল থেকে বিএলওর কাজ করছি। আমাকেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নোটিস দেওয়া হয়েছে। এখন আমাকেই শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হবে।
এদিন বিএলওরা গণইস্তফাপত্র দেওয়ায় শুনানির কাজকর্ম থমকে যায়। আধিকারিকরা বিএলও ছাড়াই শুনানি শুরু করতে গেলে বিক্ষোভ শুরু করেন ভোটাররা। তাঁরা বলেন, বিডিওকে লিখিত দিতে হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আমাদের নাম থাকবে।
অবশেষে বিকেলে রামপুরহাট এসডিও এবং এসডিপিও এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিডিওর চেম্বারে বৈঠকে বসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। সূত্রের দাবি, বিএলওদের কাজের চাপ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার আশ্বাস দেন আধিকারিকরা। এসডিও অশ্বিন বি রাঠোর বলেন, সমস্যা মিটিছে। বিএলওরা কাজ করবেন।
অন্যদিকে এসআইআরের নামে মানুষের অযথা হয়রানি বন্ধ ও ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে এই ব্লকের লোহাপুরের কাঁটাগড়িয়া মোড়ে কিছুক্ষণের জন্য জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান সিপিএমের নেতা-কর্মীরা।