নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখানোয় ১২৭ জন শিক্ষককে শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রতিটি বুথে একজন করে বিএলও নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০ বুথে কোনও বিএলও নিয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে জেলার প্রায় চার হাজার তিনশো বুথে বিএলও নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়েছে। শিক্ষক মহলের একাংশ এই দায়িত্ব এড়াতে ক্রমাগত অজুহাত দিচ্ছেন। কেউ জানাচ্ছেন, শ্বশুর বা আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি, কেউ দাখিল করছেন চিকিৎসার সার্টিফিকেট। অনেকে আবার শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন। এমনকী অনেক শিক্ষক যুক্তি দেখাচ্ছেন, বিএলও’র কাজে স্কুলে পাঠদান ব্যাহত হবে। ফলে পড়াশোনায় প্রভাব পড়বে। জেলা প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বর্তমানে সারা বছর ধরে চলে। ফলে অজুহাত দেখিয়ে কেউ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ রয়েছে— কোনও চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী কর্মীকে বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না। অর্থাৎ, স্থায়ী সরকারি কর্মী, বিশেষ করে শিক্ষক-কর্মচারীরাই মূলত এই দায়িত্ব পালন করবেন।
বর্তমানে জেলার মোট বুথ সংখ্যা ৪৬৮৬। তবে এর মধ্যে শতাধিক বুথে এখনও পর্যন্ত বিএলও নিয়োগ করা যায়নি। এতদিন ধরে প্যারা টিচার, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীসহ বিভিন্ন অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বুথ লেভেল অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু এবার কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও চুক্তিভিত্তিক, অস্থায়ী কর্মীকে আর নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিএলও পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন রাজ্য সরকারের গ্রুপ-সি বা তার উপরের স্থায়ী কর্মচারী এবং স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের স্থায়ী কর্মচারীরা। যদি এমন কর্মী না পাওয়া যায়, তবে বিকল্প হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষককে নিযুক্ত করা যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমতির প্রয়োজন হবে। আরও একটি শর্ত যুক্ত হয়েছে, যিনি বিএলও নিযুক্ত হবেন, তাঁকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটার হতে হবে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উপযুক্ত সরকারি কর্মী না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন আধিকারিককে (জেলাশাসক) ‘নন অ্যাভেলিবিলিটি সার্টিফিকেট’ তৈরি করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠাতে হচ্ছে। এরই মধ্যে আরও একটি নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এক বুথে সর্বাধিক ১২০০ ভোটার থাকলেই সেটিকে নতুন বুথ হিসেবে গণ্য করা হবে। আগে এই সীমা ছিল ১৫০০। অর্থাৎ, খুব শীঘ্রই নদীয়ায় বুথ সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই তখন অতিরিক্ত বুথ লেভেল অফিসার খোঁজা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা জেলা প্রশাসনের।