Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফর্মে ২০০২ সালের তথ্য না থাকা ২০ লক্ষের নথি বিএলওদের হাতে

১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা। সেই তালিকা অনুযায়ী, ২০০২ সালে নিজের বা কোনও আত্মীয়ের নাম না থাকা ভোটারের সংখ্যা ৩০ লক্ষ।

ফর্মে ২০০২ সালের তথ্য না থাকা ২০ লক্ষের নথি বিএলওদের হাতে
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৩:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা। সেই তালিকা অনুযায়ী, ২০০২ সালে নিজের বা কোনও আত্মীয়ের নাম না থাকা ভোটারের সংখ্যা ৩০ লক্ষ। এই ৩০ লক্ষ মানুষকে কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির একটি পেশ করে প্রমাণ করতে হবে তিনি ভারতীয় ভোটার। আপাতত সেই কাজই চলছে জোর কদমে। ইতিমধ্যেই বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) কাছে এই ৩০ লক্ষ ভোটারের তালিকা পাঠিয়েছে কমিশন। তাঁদের নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিএলওদের। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষ ভোটার নথি জমা দিয়েছেন। আর এই ২০ লক্ষ নথির যথার্থতা আপাতত খতিয়ে দেখছেন ইআরওরা। সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬ এবং ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী জমা পড়া নথি গ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানির সম্মুখীন হতে হবে না। কিন্তু জমা পড়া নথি নিয়ে কমিশনের সন্দেহের অবকাশ থেকে থাকলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হবে বলে খবর। 

Advertisement

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ২০০২ সালে নিজের বা কোনও আত্মীয়ের নাম না থাকা এমন ভোটারদের সিংহভাগই নথি হিসেবে পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দিয়েছেন। আর এই যাবতীয় পাসপোর্টের কপিগুলির সত্যতা যাচাইয়ে সেগুলির চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন ইআরওরা। কমিশনের তরফে তেমনই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কমিশনের তরফে ইআরওদের বলা হয়েছে, কোনও ভোটারের তরফে নথি হিসেবে পাসপোর্টের কপি জমা পড়লে সেটির সত্যতা যাচাইয়ে পাসপোর্ট অফিস, সংশ্লিষ্ট থানা এবং প্রয়োজনে অভিবাসন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। জমা পড়া পাসপোর্টের কপিটি সঠিক কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে হবে। কোনও কপি নিয়ে সন্দেহ থাকলে অবিলম্বে তা জেলাশাসকের নজরে আনতে হবে। 
জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রের হদিশ মেলার কারণেই নথি হিসেবে পাসপোর্ট যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। কমিশনের এক কর্তার কথায়, কোনও যোগ্য ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না যান, সেটা কমিশনের লক্ষ্য। তেমনই কোনও ভুয়ো ভোটার যাতে তালিকাভুক্ত না হন, তাও নিশ্চিত করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের জাল পাসপোর্ট চক্রের বিষয়ে কমিশন যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। সে কারণেই জমা পড়া নথি হিসেবে পাসপোর্টের কপি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেশি করে সতর্ক হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
ইআরওরা ছাড়াও জমা পড়া নথিগুলির নজরদারি করছেন কমিশন নিযুক্ত রোল পর্যবেক্ষকরা। তবে শুধু পাসপোর্টই নয়, কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে ভোটার যে নথিই জমা দিয়ে থাকুন না কেন, তার সত্যতা সম্পর্কে একশো শতাংশ নিশ্চিত হতে ইআরওদের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এদিকে, শুনানির জন্য নিযুক্ত মাইক্রো অবজারভারদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সেই প্রশিক্ষণ শিবির হবে। বড়দিনের পর থেকে শুনানি পর্ব শুরু হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

সম্পর্কিত সংবাদ