নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুধু নাম জিজ্ঞাসা করেই রক্ত দেওয়া হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগিণীকে। রক্তের পাউচে কোন গ্রুপ বা কার নাম লেখা রয়েছে, সেসব দেখার প্রয়োজন মনে করেননি দায়িত্বে থাকা কর্মী বা নার্স। রক্ত-বিভ্রাটের ঘটনার তদন্তে নেমে আধিকারিকরা এমনটাই জানতে পেরেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেদিন দায়িত্বে থাকা ওই ওয়ার্ডের সবার সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের গাফিলতিতেই ওই রোগিণীর প্রাণ গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
সেদিন কী হয়েছিল? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই রোগিণীর হাত ফুলে যায়। তখনও বিষয়টি নার্সদের নজরে আসেনি। অন্য আরএক রোগিণীর আত্মীয় তাঁদের ভুল ধরিয়ে দেন। তারপরই নার্সদের টনক নড়ে। রক্ত দেওয়া বন্ধ করা হয়। ততক্ষণে অন্য গ্রুপের রক্ত ওই রোগিণীর শরীরে চলে গিয়েছে। তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল।
এক চিকিৎসক বলেন, অন্য গ্রুপের রক্ত শরীরে প্রবেশ করলে রোগীকে বাঁচানো চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। অল্প পরিমাণ রক্ত গেলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ। সেই কারণে রক্ত দেওয়ার আগে বারবার তা দেখে নেওয়ার জন্য বলা হয়। কোনও ওয়ার্ডে একই নামে দু’জন বা তিনজন রোগী ভর্তি থাকতেই পারে। তাঁদের সবার রক্তের গ্রুপ এক না হওয়াই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে দু’জন রোগীর নাম একই হলেও পদবি আলাদা। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি তাপস ঘোষ বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আনিসুর শেখ নামে এক রোগীর আত্মীয় বলেন, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর বহু মানুষ নির্ভর করে। এখানে বহু নার্সিংহোমের চেয়ে অনেক ভালো চিকিৎসা হয়। এই ধারণা দক্ষিণবঙ্গের রোগীদের রয়েছে। সেই হাসপাতালের কর্মীরা এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলে রোগীরা কোথায় যাবে? আরএক রোগীর আত্মীয়া বুবু বিবি বলেন, হাসপাতালের একশ্রেণির কর্মী বা চিকিৎসক ভালো ব্যবহার করেন না। কোনও বিষয়ে তাঁদের জিজ্ঞেস করলেই বিরক্তি বোধ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, রোগীদের সব অভিযোগ ঠিক নয়। আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, ঝাড়খণ্ডের বহু রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। আউটডোরে ভিড় উপচে পড়ছে। ভালো পরিষেবা পাওয়া যায় বলেই তাঁরা আসেন। সম্প্রতি বেশকিছু জটিল অপারেশনও হাসপাতালে রয়েছে। অনিচ্ছাকৃতভাবেই রক্ত-বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনা তদন্ত করে দেখতে পাঁচজনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই রোগিণী সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর ডায়ালিসিসও করা হয়েছিল। তারপরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।