সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিজিওনাল ব্লাড সেন্টারে রক্তের আকাল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরাও রক্ত পেতে নাজেহাল হচ্ছেন। ডোনার কার্ড দূর অস্ত, চাহিদার অন্য গ্রুপের ডোনার এনেও রক্ত মিলছে না। পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রুপেরই ডোনার এনে রক্ত দিতে হচ্ছে। তারপরেই মিলছে। এতে বাইরে থেকে আসা এবং গরিব মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। বাধ্য হয়ে মোটা টাকা দিয়ে বাইরে থেকে রক্ত কিনতে হচ্ছে।
রক্তের এই সংকটের কথা অস্বীকার করেননি উত্তরবঙ্গ রিজিওনাল ব্লাড সেন্টারের ডিরেক্টর ডাঃ মৃদুময় দাস। তিনি বলেন, এখানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ ইউনিট রক্তের চাহিদা রয়েছে। থ্যালাসেমিয়া থেকে শুরু করে প্রসূতি মা, রোড ট্রাফিক অ্যাক্সিডেন্টে মুমূর্ষু রোগীর রক্তের চাহিদা প্রতিদিন লেগেই থাকে। এর সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য রোগী এবং বাইরের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বিপুল চাহিদা। চাহিদার তুলনায় জোগান খুব কম হওয়ায় রক্তসংকট দেখা দিয়েছে।
রিজিওনাল ব্লাড সেন্টার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরগুলি সেভাবে সরকারি হাসপাতালকে যুক্ত করে হচ্ছে না। পুজোর আগে থেকেই শিবিরও সেভাবে হয়নি। ডাঃ মৃদুময় দাস বলেন, সবথেকে আক্ষেপের বিষয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্লাড সেন্টারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অথচ প্রয়োজনে সকলে প্রথমে সরকারি হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারে আসেন। বেসরকারি ব্লাড সেন্টার থেকে রক্ত কিনতে হয়। সরকারি জায়গায় বিনামূল্যে মেলে। কিন্তু রক্তদানের ক্ষেত্রে তারা সরকারি ব্লাড সেন্টারের কথা মাথায় আনছেন না। ছটপুজোর পর থেকে কিছু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুজোর পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমরা মোট দশটি শিবিরে যুক্ত থেকে সংগ্রহ করেছি। তাতে খুব বেশি হলে ৫০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ হয়েছে। দিনে যেখানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলেই ১০০ ইউনিটের চাহিদা রয়েছে। শিবির থেকে এত কম রক্ত এলে সংকট দেখাটা স্বাভাবিক।
এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য ডাঃ মৃদুময় দাস সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি আবেদন জানিয়েছেন সরকারি ব্লাড সেন্টারে রক্ত দেওয়ার জন্য।