সংবাদাতা, সিউড়ি: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। ফলে এলাকায় এলাকায় সংখ্যায় অনেক কমে এসেছে রক্তদান শিবির। আর এরই সরাসরি প্রভাব পড়ছে সিউড়ি সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই এক প্রকার রক্তাভাব চলছে হাসপাতালে। ফলে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য মূলত এসআইআর প্রক্রিয়াকেই দায়ী করছেন ওই ব্লাড ব্যাংক কর্মীরা।সিউড়ি ব্লাড ব্যাংকের টেকনিক্যাল ইনচার্জ অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শিবির না হওয়ায় রক্তের আকাল দেখা দিয়েছে। তবে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি। ইতিমধ্যেই রক্তদাতা অ্যাসোসিয়েশনগুলির সঙ্গে কথা বলেছি। কয়েক দিন বাদেই আমাদের একাধিক রক্তদান শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত নভেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া। একাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে জেলায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমেছে। সিউড়ি সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত মজুত থাকলেওএবি পজিটিভ বাদে অন্য সব গ্রুপের রক্তের আকাল দেখা দিয়েছে। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই এই অচলাবস্থা চলছে। তাই কোনও রোগীর আত্মীয় রক্তের জন্য এলে সংশ্লিষ্ট গ্রুপের রক্তদাতা নিয়ে আসতে বলা হচ্ছে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের তরফে। এতে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগীর পরিজনরা।অবশ্য কোনও রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজন থাকলে যে কোনও গ্রুপের রক্তদাতা আনতে বলা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দাতার রক্তের বিনিময়ে রোগীকে প্রয়োজনীয় গ্রুপের রক্ত দেওয়া হচ্ছে।
ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মীর কথায়, যাঁদের রক্ত খুব জরুরি, তাঁদের মজুত স্টক থেকে দেওয়া হচ্ছে। ওই ব্লাড ব্যাংক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর গ্রীষ্মেরসময় কিছুটা রক্ত সঙ্কট দেখা দেয়। গরমের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ভয়ে অনেকেই তখন রক্ত দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। তাই আয়োজকরাও শিবিরের সংখ্যা কমিয়ে দেন। কিন্তু শীতের সময় সাধারণত এমন পরিস্থিতি হয় না কোনওবছর। শীতকালে প্রচুর সংখ্যায় শিবির হয়ে থাকে। অথচ এই বছরের ছবিটাআলাদা।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্য বছর শীতের মরশুমে মাসে প্রায় ১৫টি রক্তদান শিবির হয়। গতবছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস মিলিয়ে মোট ৩০টি শিবির হয়েছিল। সেখানে এই বছর নভেম্বর মাসে মাত্র ১০টি শিবির হয়েছে।গত ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র দু’টি শিবিরের আয়োজন করা গিয়েছে। পরিস্থিতি এতই জটিল যে, সিউড়ি সদর হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের কর্মীরা নিজেরাই দিন চারেক আগে রক্তদান করেছেন।
ব্লাড ব্যাংক কর্মীরা আড়ালে বলছেন, এই পরিস্থিতির জন্য এসআইআর প্রক্রিয়াই দায়ী। কারণ রক্তদান শিবিরের মূল আয়োজকদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসআইআর নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তাঁদের পক্ষে শিবিরের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছেনা।