সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আলু চাষের মরশুম শুরু হতেই গ্রামাঞ্চলে রক্তদান শিবির প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ফলে বিষ্ণুপুর ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের ব্যাপক আকাল দেখা দিয়েছে। রবিবার ব্লাড ব্যাঙ্কে একাধিক গ্রুপের কোনও রক্ত মজুত ছিল না। এই পরিস্থিতিতে ব্লাড ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা স্বেচ্ছাসেবীদের রক্তদান শিবির আয়োজনে আহ্বান জানিয়েছেন। চাষের মরশুমে গ্রামাঞ্চলে প্রায় সবাই ব্যস্ত। তাই এজন্য শহরের উদ্যোক্তাদেরই মুখাপেক্ষী তাঁরা।
ব্লাড ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেন, কয়েকদিন ধরেই রক্তের আকাল চলছে। ডোনার নিয়ে এলে রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই শুধু ডোনার কার্ড নিয়ে আসছেন। রক্তের সঙ্কটের কারণে তাঁদের প্রয়োজনীয় রক্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তাদের ফোন করে শিবির আয়োজনের আবেদন জানাচ্ছি।
রবিবার ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখা গেল, বেশকিছু মানুষ রক্তের রিকিউজেশন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্ত না থাকায় অনেককে ফিরে যেতে হচ্ছে। এদিন ‘এ’ পজিটিভ, ‘বি’ নেগেটিভ, ‘ও’ নেগেটিভ এবং ‘এবি’ নেগেটিভ গ্রুপের কোনও রক্ত মজুত ছিল না। ‘এ’ নেগেটিভ ও ‘এবি’ পজিটিভ গ্রুপের রক্ত মাত্র এক ইউনিট করে মজুত ছিল। তবে ‘বি’ পজিটিভ ২১ইউনিট ও ‘ও’ পজিটিভ রক্ত ৫৮ইউনিট মজুত রয়েছে। অর্থাৎ, এই দু’টি গ্রুপ ছাড়া অন্য সমস্ত গ্রুপের রক্তের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
ব্লাড ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা জানান, চলতি মাসে ৩০তারিখে বিষ্ণুপুর শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডে একটি শিবির হওয়ার কথা আছে। এছাড়া, পুরো ডিসেম্বর মাসে মাত্র দু’টি শিবির নথিভুক্ত হয়েছে। ৫ ও ১৪ ডিসেম্বর ওই দু’টি শিবির হবে। এই পরিস্থিতিতে রক্তের চাহিদা মেটানোই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে রোজ বিভিন্ন গ্রুপের ৩৫-৪০ইউনিট রক্ত প্রয়োজন, সেখানে মাত্র তিনটি শিবির থেকে এত রক্তের জোগান সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে শিবিরের সংখ্যা না বাড়ালে ডিসেম্বরে রক্তসঙ্কট আরও বড় আকার নেবে।
আধিকারিকরা জানান, এখন গ্রামাঞ্চলে ধান কাটা ও আলু চাষের কাজ জোরকদমে চলছে। এসময় শিবির আয়োজন করলে রক্তদাতা পাওয়া মুশকিল। তাই কেউ শিবির আয়োজনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আধিকারিকরা শহর এলাকার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও পরিচিতদের ফোন করে শিবির আয়োজনের আবেদন জানাচ্ছেন।
এদিন ব্লাড ব্যাঙ্কে এসেছিলেন গড়বেতার এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় বিষ্ণুপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর ‘এ’ পজিটিভ গ্রুপের রক্ত প্রয়োজন। রিকিউজেশন নিয়ে ব্লাড ব্যাঙ্কে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে শুনলাম, ওই গ্রুপের রক্ত নেই। এখন কীভাবে রক্ত জোগাড় করব-তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।